করোনা ভাইরাসের উত্পত্তি নিয়ে প্রশ্ন এর প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই। কোথা থেকে এবং কীভাবে এলো এই ভাইরাস? এটা কী সত্যিই মানুষের তৈরি না কি প্রকৃতি থেকে এসেছে? মানুষ কি জিনগতভাবে এর কোনো পরিবর্তন ঘটিয়েছে? এসব প্রশ্নের সমাধান খুঁজতে এবার শুরু হচ্ছে আন্তর্জাতিক তদন্ত। সেই স্বাধীন ও নিরক্ষে তদন্তে শেষ পর্যন্ত চীনও সমর্থন জানিয়েছে। এই দেশটিকেই দায়ী করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র এবং অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশ। বাংলাদেশসহ শতাধিক দেশ এই তদন্তে সামিল হয়েছে। চীনে সংক্রমণ অনেকটা কমলেও প্রতিবেশী ভারতে বেড়েই চলছে। গতকাল এক দিনে ৫ হাজারের বেশি মানুষের শরীরে ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।
ভার্চুয়াল সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন বিশ্ব নেতারা
গতকাল সোমবার থেকেই শুরু হয়েছে ৭৩তম ওয়ার্ল্ড হেলথ অ্যাসেম্বলির (ডব্লিউএইচএ) দুই দিনব্যাপী বৈঠক। সেখানেই তদন্ত ভ্যাকসিনের বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের নেতারা ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে তাদের বক্তব্য তুলে ধরছেন। প্রথম থেকেই অস্ট্রেলিয়া এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো করোনা ভাইরাসের উত্পত্তি নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করে আসছিল। এই তদন্তের খসড়া প্রস্তাবে বাংলাদেশ ছাড়াও সমর্থন জানিয়েছে জাপান, ব্রিটেন, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রাজিল এবং কানাডাসহ শতাধিক দেশ।
তদন্তের বিষয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছেন, ভাইরাসটি নিয়ন্ত্রণে আসার পর এ বিষয়ে একটি সমন্বিত পর্যালোচনা হতে পারে। তবে সেটা হতে হবে বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষভাবে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগামী দুই বছর ধরে তিনি ২০০ কোটি ডলার দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। প্রেসিডেন্ট শি বলেছেন, চীন যদি এই ভাইরাসের টিকা তৈরি করে সেটা সারা বিশ্বের পণ্য হিসেবে বিবেচিত হবে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁক্রো বলেন, আমরা যদি টিকা আবিষ্কার করি তাহলে সবারই সেটা পেতে হবে। অল্প কিছু মানুষের জন্য এই রোগ হুমকি হিসেবে রয়ে গেলে সেটা সবার জন্যই হুমকি হিসেবে থেকে যাবে। তিনি বলেন, মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে তর্ক হতে পারে না। এটা কেনা ও বিক্রি করা যাবে না।
জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মার্কেল বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) একটি বৈধ ও বৈশ্বিক সংস্থা, যেখানে সবগুলো বিষয় একসঙ্গে কাজ করে। আমাদের দেখতে হবে এটাকে কীভাবে আরো উন্নত করা যায়। গত বছরের শেষ দিকে করোনার সংক্রমণ শুরু হয় চীনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে। সেখান থেকে বিশ্বের ১৮৫টি দেশে সেই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। গতকাল পর্যন্ত এই ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছে ৪৭ লাখ ৪৪ হাজারের বেশি মানুষ। মৃত্যু হয়েছে ৩ লাখ ১৫ হাজারের বেশির।
ভারতে সংক্রমণ বাড়ছেই
ভারতে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় ৫ হাজার ২৪২ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এতে আক্রান্তের সংখ্যা ৯৬ হাজার ছাড়িয়েছে। আরো ১৫৭ জন মারা গেছে। দেশটিতে মোট ৩ হাজার ২৯ জন মোট মারা গেল। মালয়েশিয়ায় মোট রোগী ধরা পড়েছে ৬ হাজার ৮৯৪। সুস্থ হয়ে উঠেছে ৫ হাজার ৫৭১ জন। মারা গেছে ১১৩ জন। অর্থাত্ ৮০ শতাংশ রোগীই সুস্থ হয়েছে।