দক্ষিণবঙ্গমুখী জনস্রোত থামাতে অবশেষে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। সোমবার বিকাল ৩টা থেকে সব ধরনের ফেরি সার্ভিস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এই রুটে। এমনকি পণ্যবাহী কোনো ট্রাকও পারাপার করা হবে না। তবে মৃতদেহের কোনো গাড়ি এলে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে পারাপার করা হতে পারে। বিআইডব্লিউটিসির সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. শফিকুল ইসলাম জানান, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় কথা বলে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। সোমবার বিকাল ৩টা থেকে বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যানের নির্দেশে এ নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ঘরমুখো মানুষজনের ঢল এমনই ছিল যে দিন দিন তা জনসমুদ্রে পরিণত হচ্ছিল। যা করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি অনেক বৃদ্ধির আশঙ্কা হয়ে দাঁড়ায়। তাই প্রশাসনের সহযোগিতায় বিকাল ৩টা থেকে ফেরিচলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের কারণে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুটে ফেরির সংখ্যা গতকাল সীমিত করা হয়। চারটি বড়ো ফেরি দিয়ে সচল রাখা হয় ফেরি সার্ভিস। কিন্তু যাত্রীর ঢল আর ছোটো ছোটো গাড়ির চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ঘাট এলাকায় মারাত্মক যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে করে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। গতকাল এ বছরের সবচেয়ে বেশি দক্ষিণবঙ্গমুখী মানুষের ঢল ছিল শিমুলিয়া ঘাটে। তবে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বেশ কয়েকটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চেকপোস্ট থাকায় যাত্রীদের নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে চেকপোস্টগুলোতে। অনেক গাড়িকে আবার সেখান থেকে উলটোপথে ফিরিয়েও দেওয়া হচ্ছে। তারপরেও যাত্রীরা ভেঙে ভেঙে ছোটো ছোটো যানবাহনে করে শিমুলিয়া ঘাটের অদূরে চলে আসছে গ্রামের ভেতর দিয়ে। এরপর সেখান থেকে দুই-এক কিলোমিটার পায়ে হেঁটে অনেক কষ্ট করে ঘাটে পৌঁছে যায়।
মাওয়া নৌ পুলিশের পরিদর্শক সিরাজুল কবির জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের কারণে নৌরুটে ফেরির সংখ্যা কমিয়ে দেওয়া হয়। মাত্র চারটি ফেরি দিয়ে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুটে সীমিত আকারে ফেরি চলাচল সচল রাখা হয়েছিল। আর ঈদে ঘরমুখী যাত্রীর চাপ থাকায় ফেরির অভাবে ঘাটে মানুষের উপচে পড়া ভিড় পরে যায়।