আসুন প্রধানমন্ত্রীর কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহযাত্রী হই

বৈশ্বিক করোনা দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আর্থিক প্রণোদনা ঘোষণাসহ নানান পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। সারাদেশে কর্মহীন দুস্থদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি রেশনিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে ত্রাণ সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে দেশের সর্বত্র। পাশাপাশি সরকারিভাবেও ত্রাণ সহায়তা হিসেবে দেওয়া হচ্ছে খাদ্যসামগ্রী। অথৈ জলে পড়া মানুষ বাঁচার জন্য খড়কুটাও আঁকড়ে ধরে। এই দুর্যোগকালে সম্প্রতি দুটি সুখবর এসেছে বাংলাদেশের জন্য। একটি হলো—নাইকোর বিরুদ্ধে জয়। যেখানে কানাডার কোম্পানি নাইকোর অদক্ষতার কারণে ২০০৫ সালে দুবার সুনামগঞ্জের ছাতকের টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে বিস্ফোরণের ঘটনায় তাদের দায়ী করে মামলা করা হয়। তারই ক্ষতিপূরণ হিসেবে আট হাজার কোটি টাকা পেতে পারে বাংলাদেশ। আরেকটি হলো, বিশ্বখ্যাত সাময়িকী ‘দ্য ইকোনমিস্ট’ তাদের প্রকাশিত ‘হুইচ এমার্জিং মার্কেটস আর ইন মোস্ট পেরিল’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বিশ্বের ৬৬টি উদীয়মান দেশের একটি ক্রমতালিকা তুলে ধরেছে। সেখানে বাংলাদেশ নবম অবস্থানে রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতার মধ্যেও ভারত, চীন কিংবা সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) মতো দেশের চেয়ে তুলনামূলকভাবে নিরাপদে রয়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষে। অর্থাত্ এই অঞ্চলে বাংলাদেশের আর্থিক খাতের অবস্থা সবচেয়ে ভালো। ইকোনমিস্টের মতে, বাংলাদেশসহ তালিকার শুরুর দিকের ৩০টি দেশের বিদেশি ঋণ পরিশোধ এবং যে কোনো চলতি হিসাবের ঘাটতি পূরণ করার মতো পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে।

কয়েকদিন পর ঈদ-উল-ফিতর। সরকারি ঘোষণায় স্বল্প পরিসরে মার্কেট, শপিংমলগুলো খুললেও স্বাস্থ্যবিধি না মানায় দেশের অনেক স্থানেই আবার অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ঈদ উপহার হিসেবে আর্থিক সহযোগিতা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে দুস্থদের মোবাইল ফোনে। করোনার দাপট এক সময় কমে আসবে। আসুন, সেই প্রত্যাশায় প্রধানমন্ত্রীর চেষ্টার সহযাত্রী হই। তাঁর কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করি।

বোরহান বিশ্বাস

খিলগাঁও, ঢাকা