ব্যাংকে উপচেপড়া ভিড় বাড়ছে ঝুঁকি

গ্রাহকরা একদিকে যেমন আতঙ্কের মধ্যে ব্যাংকে আসছেন, অন্যদিকে রোজা রেখে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে ক্লান্ত হচ্ছেন। স্বাভাবিক লেনদেনের চেয়ে সময় কমিয়ে আনার কারণে ভিড় বাড়ছে বলে ব্যাংকাররা জানিয়েছেন

g রেজাউল হক কৌশিক

করোনা ভাইরাসের আতঙ্কের মধ্যেই চলছে ব্যাংকিং। এক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না। ব্যাংকের প্রতিটি শাখায় উপচে পড়া ভিড়। ফলে ভোগান্তি চরমে উঠেছে। গ্রাহকরা একদিকে যেমন আতঙ্কের মধ্যে ব্যাংকে আসছেন, অন্য দিকে রোজা রেখে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে ক্লান্ত হচ্ছেন তারা। এতে গ্রাহকদের পাশাপাশি ব্যাংক কর্মকর্তাদেরও করোনা ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন অনেকে।

এখন রোজার শেষ দিকে হওয়ায় ঈদ উপলক্ষ্যসহ নানা কারণে গ্রাহকরা টাকা তুলতে ব্যাংকে ভিড় করছেন। অন্য দিকে ক্রেডিট কার্ডের বিলসহ অনেক বিল ও সঞ্চয় স্কিমেও টাকা জমা দিচ্ছেন তারা। স্বাভাবিক লেনদেনের চেয়ে সময় কমিয়ে আনার কারণে ভিড় বাড়ছে বলে ব্যাংকাররা  জানিয়েছেন।

ঈদ উপলক্ষ্যে বাড়িতে টাকা পাঠানোর জন্য মিরপুরের ডাচ-বাংলা ব্যাংকে গিয়েছিলেন শেখ আবু তালেব। সকালে ঐ শাখায় গেলেও দুপুর পর্যন্ত তিনি লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ব্যাংকের কর্মকর্তার উপস্থিতি কম হওয়ায় এক জন গ্রাহককে সেবা দিতে বেশি সময় লাগছে বলে ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আর ব্যাংকে প্রচুর মানুষ থাকায় সেখানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাও সম্ভব হচ্ছিল না। একই অবস্থা মতিঝিলের উত্তরা ব্যাংকের লোকাল ব্র্যাঞ্চেও দেখা গেল। এখানকার এক জন গ্রাহক জানান, করোনার ঝুঁকি নিয়ে সকাল ১১টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। পরে আড়াই ঘণ্টায় কাজ শেষ হয়েছে।

এনসিসি ব্যাংকের বংশাল শাখাতেও একই দৃশ্য। সেবা পেতে সময় বেশি লাগছে গ্রাহকের—এমন অভিযোগ স্বীকার করে এনসিসি ব্যাংকের বংশাল শাখার এক কর্মকর্তা বলেন, আগে ৩০ জন কর্মী কাজ করতেন, এখন ১০ জন। গ্রাহকের উপস্থিতি বেশি থাকায় সেবা দিতে একটু সময় লাগছে। কিন্তু তার পরও ঝুঁকি নিয়েই সেবা দিচ্ছি। তিনি বলেন, সামনে ঈদ। প্রয়োজনীয় লেনদেন সারতে গ্রাহক ভিড় করছেন।

জানা গেছে, ঈদকে কেন্দ্র করে মানুষের ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলন এবং আমানত রাখার পরিমাণ অনেক বেড়েছে। আর অন্য সময় যেখানে ৪টা পর্যন্ত লেনদেন হয় এখন সেখানে আড়াইটা পর্যন্ত লেনদেন হচ্ছে। এতে গ্রাহক সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন ব্যাংকাররা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী, গত ১০ মে থেকে দৈনিক ব্যাংকিং লেনদেন সকাল ১০টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত চলছে।