চরফ্যাশন ও মনপুরায় আশ্রয়কেন্দ্রে আসছে মানুষ

ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাবে মঙ্গলবার সকাল থেকেই পুরো ভোলা জেলার আকাশ মেঘাচ্ছন্ন। কোথাও হালকা আবার কোথাও মাঝারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। ভোলা সংলগ্ন মেঘনা তেতুলিয়ায় অতিরিক্ত পানি প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার বিচ্ছিন্ন ২১ চরের মানুষদের কাছের আশ্রয় কেন্দ্রে আনা হচ্ছে । বিশেষ করে চরফ্যাশনের ঢাল চরে কোনো আশ্রয় কেন্দ্র না থাকায় উপজেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় প্রায় ৫০টি ট্রলারে করে সেখানকার মানুষদের চরফ্যাশনের মূল ভূখণ্ডে আনা হচ্ছে। 

ঢালচরের ইউপি চেয়ারম্যান আবদুস সালাম জানান, মঙ্গলবার বিকাল ৪টার মধ্যে প্রায় চার হাজার লোককে চরফ্যাশনের দক্ষিণ আইচা আশ্রয় কেন্দ্র গুলোতে নেওয়া হয়েছে। অবশিষ্টদেরও নেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সেখানে প্রায় আট হাজার মানুষের বাস।  ভোলা জেলা প্রশাসক দফতরের ঘূর্ণিঝড় আম্ফান নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আকিব ওসমান জানান, আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানকারীদের জন্য শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাবে ভোলায় ৭নং বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় ভোলা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ১১০৪টি সাইক্লোন শেল্টার খুলে দেওয়ার পাশাপাশি ৯২টি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যা থেকে উপকূলীয় এলাকায় সতর্কতামূলক  প্রচারণা চালাচ্ছে সিপিপি সদস্যরা। উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে নৌ বাহিনী, নৌ পুলিশ, জেলা পুলিশ ও কোস্টগার্ড এ সকল মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে আসতে সহায়তা করছে। 

আরও পড়ুন: ছাত্রীর মেসেঞ্জারে প্রধান শিক্ষকের প্রেম নিবেদনের অভিযোগ

ভোলার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক জানান, ঘূর্ণিঝড়ে সবাইকে সতর্ক করার পাশাপাশি নিরাপদে আসতে সিপিপি ও রেডক্রিসেন্টের ১০ হাজার ২০০ সেচ্ছাসেবী কাজ করেছে।  এছাড়াও আশ্রয় কেন্দ্রে মানুষদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা ছাড়াও নগদ টাকা, শুকনো খাবার ও শিশু খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের আগে, ঘূর্ণিঝড়কালীন সময় ও ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী এ তিনটি ধাপেই কাজ করার জন্য সকল প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা প্রশাসন।

ইত্তেফাক/এসি