একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আরও পেছানোর দাবি নিয়ে আজ বুধবার নির্বাচন কমিশনে (ইসি) যাচ্ছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মতিঝিলে ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে ফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকের পর ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের জানান, শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে দুপুর ১২টায় ঐক্যফ্রন্টের ১৪ জন নেতা ইসিতে যাবেন। অবশ্য প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) পক্ষ থেকে ঐক্যফ্রন্টকে বিকাল সাড়ে তিনটায় সময় দেওয়া হয়েছে।
ভোট পেছানোর দাবি নিয়ে ইসিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর বিষয়টি জানিয়ে ইসিতে চিঠি দিয়েছে ঐক্যফ্রন্ট। মির্জা ফখরুল স্বাক্ষরিত ওই চিঠি দুপুরে নির্বাচন কমিশনে পৌঁছে দেন গণফোরাম নেতা রফিকুল ইসলাম পথিক। চিঠিতে বলা হয়, তফসিল ঘোষণার আগে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করার রেওয়াজ মানা হয়নি। তড়িঘড়ি এক তরফা তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। এক মাস পেছানোর দাবি করলেও সরকারের পরামর্শে সাতদিন পিছিয়ে পুনঃতফসিল করা হয়েছে। কমিশনের সঙ্গে আলোচনার জন্য ঐক্যফ্রন্টের ১৪ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নামও পাঠানো হয়েছে ওই চিঠির সঙ্গে।
ঐক্যফ্রন্টের বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচন এক মাস পিছিয়ে দেওয়ার জন্য আমরা যে দাবি জানিয়েছি সেটা করা অত্যন্ত জরুরি। আমরা আশা করব, নির্বাচন কমিশন আমাদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলাপ করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। ‘ভোটের তারিখ আর পেছানোর সুযোগ নেই’- সিইসি নুরুল হুদার এই বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ফখরুল বলেন, আমরা সেজন্যই তো যাচ্ছি। উনি (সিইসি) স্পষ্ট করে বললেই তো হবে না। আমরা আমাদের দাবি-দাওয়াগুলো অবশ্যই বলব।
নির্বাচন এক মাস পেছানোর পক্ষে যুক্তি দিয়ে ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র বলেন, তফসিল যেসময় ঘোষণা করা হয়েছে সে সময়টিতে বড়দিনের ছুটি থাকে। এছাড়া নববর্ষ আসছে, সেটাও একটা বড় অনুষ্ঠান। একইসঙ্গে আমরা যে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের আশা করছি, একটা সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচন দেখার জন্য তাদের সেই সুযোগও থাকছে না যদি ওই সময়ে ভোট হয়। পুনঃতফসিলে ৩০ ডিসেম্বর ভোটের তারিখ নির্ধারিত হওয়ায় ঐক্যফ্রন্ট হতাশ হয়েছে। আমরা মনে করছি, কমিশন একটা সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন করবার ব্যাপারে খুব একটা আগ্রহী নয়।
বিএনপি মহাসচিব আরো জানান, নির্বাচন সামনে রেখে ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা ড. কামাল হোসেন আগামী ১৬ নভেম্বর সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। এরপর ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার কর্মকর্তাদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন। নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে বিএনপি কীভাবে আসন ভাগাভাগি করবে- এরকম এক প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, সে সিদ্ধান্ত আরও পরে নেওয়া হবে। এ সময় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী বলেন, সরকারের ইচ্ছায় অধ্যাপক বি. চৌধুরীর প্রস্তাবে ইসি ভোটের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর করেছে। ইসি চলছে সরকারের ইচ্ছায়।
ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে ঐক্যফ্রন্টের এই বৈঠকে মির্জা ফখরুল ছাড়াও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর, জেএসডি সাধারণ সম্পাদকর আবদুল মালেক রতন, গণফোরাম নেতা মোকাব্বির খান ও জগলুল হায়দার আফ্রিক যোগ দেন। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
ইশতেহারের জন্য কমিটি গঠন: নির্বাচনের ইশতেহার তৈরির জন্য জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট একটি কমিটি গঠন করেছে। কমিটিতে বিএনপিপন্থি সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ, গণফোরামের আ ও ম শফিক উল্লাহ, নাগরিক ঐক্যের ডা. জাহেদ উর রহমান, জেএসডির শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের অধ্যক্ষ ইকবাল সিদ্দিকী এবং গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী রয়েছেন।