তামিমের আলাপে নান্নু-আকরাম-পাইলট
স্পোর্টস রিপোর্টার
বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা কী?
যারা বেশ কিছুদিন ধরে ক্রিকেট অনুসরণ করেন, তারা এক বাক্যে বলবেন—১৯৯৭ সালের আইসিসি ট্রফি জয়। এখনো সেই টুর্নামেন্ট নিয়ে কত স্মৃতি। বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে নিয়ে যাওয়া এবং টেস্ট স্ট্যাটাস পাইয়ে দেওয়া সেই টুর্নামেন্ট নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, আকরাম খান ও খালেদ মাসুদ পাইলট। তামিম ইকবালের লাইভ অনুষ্ঠানে এসে স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েছিলেন জাতীয় দলের এই সাবেক তিন অধিনায়ক।
আইসিসি ট্রফির প্রস্তুতি নিয়ে বলতে গিয়ে নান্নু বলছিলেন, ‘মুদাসসর নজরের অধীনে ১৯৯০-এ শুরু করেছিলাম। ১৯৯৪-এ মহিন্দর অমরনাথ ছিল। সব মিলিয়ে নজর শিখিয়েছে অনেক কিছু। গ্রিনিজ এসে আরো বদলে দিয়েছে। আমরা বিকেএসপিতে গিয়ে অনুশীলন শুরু করি, আলাদা একটা মাঠ পাই। সিস্টেমটা বদলাতে থাকে। বোর্ডকেও ধন্যবাদ দিতে হবে তখনকার। কৃত্রিম টার্ফে খেলা হয়েছিল সে টুর্নামেন্ট, এর আগের প্রিমিয়ার লিগ আমরা তেমন টার্ফে খেলেছিলাম। সার্ক টুর্নামেন্টও খেলেছিলাম।’
অনেক নাটকীয়তার পর বাংলাদেশ ট্রফি জিতল। শেষ ওভারের সেই উত্তেজনা এখনো ভুলতে পারেন না নান্নু। তিনি বলছিলেন, ‘সবার একটাই কথা, জিততেই হবে। বল যেদিকেই যাক, দৌড়াও। সবার একটাই কথা ছিল, ‘মার, মার’। প্রথম বল ছয়ের পর তো দুইটা (একটি ছিল ওয়াইড) ডট পড়াতে আবার টেনশন। ড্রেসিংরুম তো ছিল তাঁবু। যারা আউট হয়েছিল, কেউ কিন্তু প্যাড খোলেনি। এমন একটা ভাব, আবার নামতে হবে ব্যাটিংয়ের জন্য।’
শেষ ওভারে ছক্কা মেরে অন্যতম নায়ক ছিলেন পাইলট। তিনি মনে করছিলেন, ‘আমি শুধু ভয় পাচ্ছিলাম শান্তকে নিয়ে। ও কিন্তু মাঝে মাঝে পাগলামি করে। আমি তাকে শান্ত করার চেষ্টা করছিলাম। আমি শুধু বলছিলাম, তোর কাজ হচ্ছে ব্যাটে লাগান। সৌভাগ্যক্রমে পায়ে লেগেছিল। আমি ভালো দৌড়াতাম।’
ম্যাচ শেষে আনন্দের কথাও মনে করছিলেন পাইলট, ‘হোটেলে এসে আনন্দ করছি। ফ্লাইট ছিল পরদিন, কিছুক্ষণ পর শুনলাম চলে আসতে হবে সেদিনই। আমাদের এখনকার প্রধানমন্ত্রী (শেখ হাসিনা) তখনো ছিলেন। উনি দেশের বাইরে চলে যাবেন বলে চার্টার্ড ফ্লাইট দেওয়া হয়েছে। ছোটো একটা বিমানে করে চলে এসেছিলাম ঢাকায়। বিমানে ওঠার সময় দেখি পাইলট, বিমান ক্রু, সবাই কেক নিয়ে এসেছে। আমরা কিন্তু বাসের মতো করে (উল্লাস করতে করতে) এসেছি। পরদিন ছিল পহেলা বৈশাখ।’
আইসিসি ট্রফি জয়ী দলের অধিনায়ক আকরাম সেই স্মৃতি মনে করে বলছিলেন, ‘পাইলট যেটা বলল, শেষ ওভারে ১১ রান দরকার ছিল। আল্লাহর কাছেও দোয়া করছিল, যাতে ও প্রিয় জিনিসটা নিয়ে যায়, তবুও জিতিয়ে দেয়। আল্লাহ তো ভালো জিনিসটা নেয়ই নাই, আইসিসির পর আল্লাহ ওকে সবচেয়ে ভালো জিনিসটা দিয়ে দিয়েছে। ঘটনা হচ্ছে, সবাই বলে না, আইসিসির পর এটা পেয়েছে, ওটা পেয়েছে। পাইলট কী পেয়েছে জানো? ও যখন আইসিসিতে যায়, ও বিয়ে করে গিয়েছিল। ওর শ্বশুর ওরে দেখতেই পারে না। যখন আইসিসি থেকে আসলাম, ওর শ্বশুর—যার মাথায় রং, দাঁড়িতে রং—ওকে জড়িয়ে ধরে সোনার চেইনটা পরিয়ে দিল। এই জিনিসটা আমি কখনোই ভুলতে পারব না।’