নিম্ন আয়ের মানুষের স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের মহোত্সব

মোরশেদা ইয়াসমিন পিউ

কাঁচাবাজার, ফার্মেসি, কিংবা পাড়ার মুদির দোকান, কোথাও স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না। সর্বত্রই মাস্ক-গ্লাভস না পরেই ঘোরাফেরা করছেন সাধারণ মানুষ। এতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা। স্বাস্থ্যবিধি না মানার দৃশ্য এখন ফুটপাত, মার্কেট, অলিগলি, রাজপথসহ সবখানে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বালাই নেই। অস্থায়ী বাজারগুলোতে মানুষের জটলা।

গতকাল রাজধানীর মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, নিউমার্কেট, বনানী, শাহবাগ, বাংলামোটর, কাওরান বাজার, ফার্মগেট, মহাখালী, কুড়িল, বিশ্বরোড এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। মিরপুরের ৬০ ফুট রোডে ভ্যানে করে যারা সবজি বিক্রি করেন, তাদের অনেকের মুখে মাস্ক এবং হাতে গ্লাভস নেই। ভ্যানে সবজি বিক্রেতা  ইসমাইল বলেন, ‘আমাগোর দূরত্ব মানা, না মানা সমান, আমরা থাকি বস্তিতে, বড়ো লোকেরা নিয়ম মানুক, আমাগো প্যাড চলে না...’। শ্যামলী ৩ নম্বর সড়কে সবজি কিনতে আসা সায়মন বলেন, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে চলার বিষয়টি মাথায় রেখে বাসা থেকে বের হই ঠিকই। কিন্তু রাস্তায় নেমে মানুষের ভিড়ের মধ্যে আর তা মানা হয় না। আমি দূরে দাঁড়াতে চাইলেও আরেক জন এসে আমার পাশে দাঁড়ায়। মোহাম্মদপুর নুরজাহান রোডে দুই সন্তান নিয়ে মাস্ক ও গ্লাভস ছাড়া ফুটপাতে হাঁটতে দেখা যায় এক পিতাকে। স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, ‘আমার বাচ্চারা মাস্ক পরতে চায় না, তাদের দম বন্ধ লাগে আর আমাকেও পরতে দেয় না, বাসা সামনেই বলে কেটে পড়েন তিনি।’

অন্য আরেক জন পথচারী মাস্ক, গ্লাভস ছাড়াই ছুটছেন। তিনি বলেন, ‘পেটে ভাত নাই, মাস্ক, কিনুম কই থাইক্যা? আর হাতে ঐ প্লাস্টিকের মুজা পইড়া কাম করুম ক্যামনে?’ বসিলা কাঁচাবাজারে বাজার করতে আসা মরিয়ম বেগম মাস্ক না পরার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আল্লায় মরণ কপালে লিখলে মাস্ক কি আর করোনা থামাইতে পারব? কপালে করোনায় মরণ থাকলে মরতেই হইব।’ বুধবার রাজধানীর শ্যামলী, মোহাম্মদপুর, বসিলা, বনানী, গাবতলী, মিরপুর, ফার্মগেট, কাওরান বাজার, কুড়িল এলাকায় ঘুরে দেখা যায় যানজট। ২০ মিনিটের পথ এক ঘণ্টায়ও পার হতে পারেননি অনেকে। বনানীতে দেখা যায়, ধীর গতিতে গাড়ি চলছে। এর মধ্যে গণপরিবহন ছাড়া ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, প্রাইভেটকার মাইক্রোবাস সবই চলছে।