সুপারসাইকোন আম্ফান প্রবল গতিতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উপকুলে আঘাত হেনেছে। এর বিস্তার প্রবেশ করে বাংলাদেশের সুন্দরবন উপকুলে। গতকাল বুধবার বিকাল ৪টার দিকে সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় আম্ফানের অগ্রভাগ আঘাত হানে। এর আগে সকাল ৬টা থেকে মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপত্সংকেত দেখাতে বলা হয়। খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, পিরোজপুর, বরগুনাসহ উপকুলীয় জেলা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ১০ নম্বর মহাবিপত্সংকেতের আওতায় ছিল। পশ্চিমবঙ্গে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও বাংলাদেশের উপকুলভাগে সেই তুলনায় কম ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশাখাপট্টমে দুর্বল হয়ে দ্রুত সাইক্লোনটি পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন এলাকার গঙ্গা সাগর ও বাঁকখালী চরের মাঝ দিয়ে ভূমিতে উঠে আসে । মূল আঘাত পশ্চিমবঙ্গমুখী হওয়ায় বাংলাদেশে ভয়াবহ আকারে প্রভাব পড়েনি। উত্তর ও দক্ষিন ২৪ পরগনাসহ কলকাতায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। শেষ রাতের দিকে সাইক্লোনটি শক্তি হারিয়ে একটি স্থল নিম্নচাপে পরিনত হয়।
আবহাওয়া অফিস জানায়, বিকাল চারটায় খুলনা, সাতক্ষীরা, মোংলা ও সুন্দরবনের একাংশ দিয়ে ঢুকে বাংলাদেশ অতিক্রম শুরু করে।অতিক্রম করতে সময় লাগে আট ঘন্টার বেশী। ঘূর্ণিঝড়টি অতিক্রমের সময় সুন্দরবন অংশে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৬০ থেকে ১৮০কিলোমিটারের মধ্যে ছিল। রাত ১২ টার পর সাতক্ষীরা ও খুলনা অঞ্চল অতিক্রম করে।মধ্যরাতের পর ঝড়ো হাওয়াসহ স্থল নিম্নচাপ আকারে কুস্টিয়া ,মেহেরপুর দিকে য়ায়। ঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় জেলাগুলোতে প্রবল ঝড়ো হাওয়াসহ প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে। রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য অংশেও ঝড়-বৃষ্টি হয়।রাজধানীতে রাত সাড়ে ১১ টার পর বৃস্টি শুরু হয়।সাতক্ষীরার শ্যামনগর, খুলনার পাইকগাছা,কয়রাসহ উপজেলার বহু ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে।শ্রীকণ্ঠপুর,বাঁকা, কপিলমুনিসহ বহু এলাকার গাছপালা, কাঁচা ঘর, ক্ষেতের ফসল ধ্ধংস হয়েছে। বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে গেছে। মাছের ঘের প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পটুয়াখালীতে দুইজন, ভোলায় দুইজন, লক্ষ্মীপুরের একজন, পিরোজপুরে একজন, সন্দীপে একজন, সাতক্ষীরায় একজন মারা গেছেন।
আবহাওয়া দফতরের উপপরিচালক কাওছার পারভীন জানান, যতই এই ঝড় উপকূল থেকে উপরের দিকে এগিয়ে গেছে ততই শক্তি কমে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে।আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ ওয়াহিদুজ্জামান জানান,সাইক্লোনটি পূর্ণ জোয়ারের ৪ ঘন্টা আগেই ভূমিতে উঠে যাওয়ায় স্বাভাবিকের চেয়ে জোয়ারের পানি সর্বোচ্চ ৬ থেকে ১০ ফুট পর্যন্ত অতিরিক্ত উঁচু হয়। সাইক্লোনটি যদি আগের গতিতে আরো দুই ঘন্টা পরে স্থলভাগ অতিক্রম করতো, তাহলে জোয়ারের পানি আরো বেশি বৃদ্ধি পাবার আশঙ্কা ছিল।ঘূর্ণিঝড় এবং দ্বিতীয় পক্ষের চাঁদের সময়ের শেষ দিনের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও চট্টগ্রাম এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোর নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ১০ থেকে ১৫ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হয়।ক্ষয়ক্ষতির পরিমান তাত্ক্ষনিকভাবে নিরুপন করা যায়নি।
গতকাল বুধবার রাত ১১ টার পর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে আবহাওয়া অধিদফতর জানায়,ঘূর্ণিঝড় আম্ফান আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে উপকূল অতিক্রম সম্পন্ন করেছে। রাত ১১ টায় এটি সাতক্ষীরা জেলা ও তত্সংলগ্ন এলাকায় ঘূর্ণিঝড় হিসেবে অবস্থান করছিল। এটি আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে বৃষ্টি ঝরিয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হবে। আরও বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তত্সংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। সাগর উত্তাল থাকবে। মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।চট্টগ্রাম ও কঙ্বাজার সমুদ্রবন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম এবং কঙ্বাজার তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।
বিভিন্ন এলাকার সংবাদদাতারা জানিয়েছেন, আম্ফানের প্রভাবে পটুয়াখালীতে দুইজন, ভোলায় দুইজন, লক্ষ্মীপুরের একজন, পিরোজপুরে একজন, সন্দীপে একজন, সাতক্ষীরায় একজন মারা গেছেন। ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার মানিকা ইউনিয়নের চর কচ্ছপিয়া গ্রামের সিদ্দিক ফকির (৭০) বাড়ির পাশে গাছের নিচে চাপা পড়েন। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিন। সকালে চট্টগ্রামে শ্রমিক হিসেবে কাজ করা মোহাম্মদ রাফিকুল ইসলাম (৩৫) ফিরছিলেন। লক্ষ্মীপুরের মজু চৌধুরীর ঘাট থেকে ট্রলারে করে ভোলার ইলিশা ঘাটে আসার পথে মেঘনায় ট্রলার উল্টে নিহত হন তিনি। লকডাউন অমান্য করার কারণে পরিবারের লোকজন তার মৃত্যুর ঘটনা শুরুতে গোপন রাখেন। দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপে আম্পান আসার আগেই জোয়ারের পানিতে ডুবে মো. সালাউদ্দিন (১৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। দুপুরের দিকে সন্দ্বীপ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে এই দুর্ঘটনা ঘটে। সন্দ্বীপ থানার পরিদর্শক তদন্ত মো. সোলাইমান জানান, উপকূলে ঘাস কাটতে গিয়ে ওই যুবক জোয়ারের পানিতে পড়ে যান। পরে স্থানীয়রা তার মরদেহ উদ্ধার করে। মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) সংবাদদাতা জানান, সন্ধ্যার দিকে শহরে দেওয়াল চাপা পড়ে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। তার নাম শাজাহান মোল্লা (৫৫)। এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপজেলায় সকাল থেকে প্রচন্ড দমকা বাতাস বৃষ্টি হয়। এতে উপজেলার বলেশ্বর নদ তীরবর্তী চার-পাঁচ ফুট পানিতে তলিয়ে যায়। বেতমোড় ইউনিয়নের বলেশ্বর নদ মধ্যবর্তী মাঝের চরের বেড়িবাঁধ উপচে হু হু করে পানি ঢুকে পড়ে। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ট্রলারযোগে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন মাঝের চরের ১২০ পরিবারকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে আনে।সন্ধ্যার পর সাতক্ষীরায় গাছের ডাল পড়ে নারীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতের নাম করিমন। তার বয়স ৪০ বছর।সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
খুলনা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আমিরুল আজাদের বরাত দিয়ে খুলনা অফিস জানায়, বিকালে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের অগ্রভাগ সুন্দরবনসংলগ্ন কয়রা ও সাতক্ষীরার শ্যামনগরে আঘাত হানে। ঐ এলাকায় তখন বাতাসের গতিবেগ ছিল ৬০-৭০ কিলোমিটার। আম্ফানের প্রভাবে মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে খুলনা অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। সুন্দরবনসংলগ্ন নদ-নদীতে পানি জোয়ারের চেয়ে ৩ থেকে সাড়ে ৩ ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন জানান, খুলনার উপকূলীয় এলাকার ২ লক্ষাধিক মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। তবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাননি তিনি। এদিকে উপকুলীয় দাকোপ ও কয়রা উপজেলার মানুষ বেড়িবাঁধ ভাঙনের আশঙ্কায় রয়েছেন। অনেক জায়গায় মানুষ নিজেরাই ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের ফাটল মেরামত করছেন।
পটুয়াখালী প্রতিনিধি জানান, সকাল ৮টার দিকে সতর্কতামূলক মাইকিং করে আশ্রয়কেন্দ্রে ফেরার পথে কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ইউনিটের ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) টিম লিডার শাহ আলম নৌকাডুবিতে নিখোঁজ হন। সন্ধ্যায় স্থানীয় একটি খাল থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করে এলাকাবাসী।এদিকে অরক্ষিত বেড়িবাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাঙ্গাবালী উপজেলার মাঝের চর, চরআন্ডা, চরমোন্তাজ, চালিতাবুনিয়াসহ পাঁচটি প্লাবিত হয়েছে।
হাতিয়া (নোয়াখালী) সংবাদদাতা জানান, দুপুরে হাতিয়া উপজেলায় বেড়িবাঁধ ভেঙে পাঁচটি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ অঞ্চল তিন-চার ফুট জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এতে করে লক্ষাধিক লোক পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বিধ্বস্ত হয়েছে নিঝুমদ্বীপ, চরঈশ্বর, নলচিরা, সুখচর ও চরকিং ইউনিয়নের শতাধিক কাঁচা ঘর। শরণখোলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা জানান, সাউথখালী ইউনিয়নে বেঁড়িবাধ ভেঙে শরণখোলা গ্রামে দেড় শতাধিক বাড়িঘর প্লাবিত হয়েছে। প্রায় ২০ হাজার মানুষ চরম ঝুঁকি ও আতঙ্কে রয়েছেন। চট্টগ্রাম অফিস জানায়, ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ থেকে পণ্য ওঠানামাসহ সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রশাসন) জাফর আলম।
বরিশাল অফিস জানায়, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বিপত্সীমা অতিক্রম করেছে উপকুলীয় এলাকার নদীর পানি। বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী মো. জাভেদ জানান, জোয়ারে নদ-নদীর পানির উচ্চতা বেড়েছে চার থেকে পাঁচ ফুট। বরিশালের কীর্তনখোলো নদীর পানি বিপত্সীমার দুই সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নীচুএলাকা প্লাবিত হয়েছে। বিভাগে ১০ লাখ ৬৫ হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছেছে।
কলাপাড়া (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা জানান, উপজেলার নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। জোয়ারের পানিতে সহস্রাধিক কাঁচা বাড়িঘর প্লাবিত হয়েছে। হাজারো মাছের ঘের ও পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের ১৪টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে প্রায় ৮ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
মনপুরা (ভোলা) সংবাদদাতা জানান, ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরা উপকুলের মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন কলাতলীর চর ও চরনিজাম তিন-চার ফুট জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে। চরনিজাম ও কলাতলীর চরে আশ্রয়কেন্দ্রের সামনে জোয়ারের পানি প্রবাহিত হচ্ছে। মোংলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা জানান, তিন থেকে চার ফুট পানি বেড়েছে বলে জানান বাগেরহাট জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাহিদুজ্জামান।
ভোলা (দক্ষিণ) প্রতিনিধি জানান, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ভোলা সংলগ্ন মেঘনা তেঁতুলিয়া নদী উত্তাল। পানির উচ্চতা বেড়েছে কয়েক ফুট। অতিরিক্ত জোয়ারে জেলার নিম্নাঞ্চল কয়েক ফুট পানিতে তলিয়ে গেছে।
বাগেরহাট প্রতিনিধি জানান, সকাল থেকে জেলায় দমকা ঝড়ো হাওয়া বইতে শুরু করে। সেই সঙ্গে বৃষ্টি শুরু হয়। জেলার ৯৭৭টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে ৯০ হাজারের অধিক মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। অতিবর্ষণ ও ঝড়ো হাওয়ায় ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছে কৃষি বিভাগ।
বামনা (বরগুনা) সংবাদদাতা জানান, জেলায় সকাল থেকে বইছে দমকা হাওয়া এবং মুষলধারে বৃষ্টি। বিষখালী নদীতে দেখা দিয়েছে উত্তাল তুফান।স্বাভাবিক জোয়ারের চাইতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় দুই-তিন ফুট। উপজেলার কলাগাছিয়া পূর্ব সফিপুর ও অযোধ্যা গ্রামের বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় স্থানীয় জনগণ স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ মেরামত করছেন।
২৪ লাখ মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে :
ঘুর্ণিঝড় ‘আম্ফান’এর কারণে উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় ২৪ লাখ মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় আম্ফান মোকাবেলায় সরকারের সবশেষে প্রস্তুতি নিয়ে বুধবার বিকেলে সচিবালয় থেকে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান। তিনি বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’ বাংলাদেশ-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের দিকে এগিয়ে আসতে থাকায় এ পর্যন্ত ২৩ লাখ ৯০ হাজার ৩০৭ জন মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়েছে। এছাড়া ৫ লাখ ১৭ হাজার ৪৩২টি গবাদিপশুকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসা হয়েছে।ওষুধসহ মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে জানিয়েএনামুর রহমান বলেন, যারা আশ্রয়কেন্দ্রে এসেছেন তাদের মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার সরবরাহ করা হয়েছে ভাষাণচরের ১২০টি শেল্টারের মধ্যে একটিতে কিছু মানুষকে রাখা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের তদারকিতে নৌবাহিনী রয়েছে, তাদের জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের কন্ট্রোল রুম':
ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের কারনে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ‘কন্ট্রোল রুম’ খুলেছে। প্রয়োজনীয় যোগাযোগের জন্য কন্ট্রোল রুমের টেলিফোন নম্বর হলো-৯৫৪৬০৭২। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম খান এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন,গতকাল বুধবার সকাল ৮টা থেকে ২২ মে রাত ১০টা পর্যন্ত কন্ট্রোল রুম খোলা থাকবে।