রাজশাহী থেকে ট্রেনে আম যাবে ঢাকায়

আম্ফানে  ১৫ শতাংশ ঝরে গেছে

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী

করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকলেও এবারই প্রথম রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ট্রেনে আম যাবে ঢাকায়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকায় নিতে কেজিপ্রতি আমের ভাড়া লাগবে মাত্র দেড় টাকা। আর রাজশাহী থেকে ভাড়া এক টাকা ত্রিশ পয়সা। সম্প্রতি রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আম সংগ্রহ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণ নিয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হক। এতে বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিস, কৃষি বিভাগ, পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে, জেলা ও মহানগর পুলিশসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন এলাকার আমচাষি এবং ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, আম নামানো শুরু হওয়ার পর শুধু আম পরিবহনেই চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ট্রেন ঢাকায় যাবে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা প্রতি কেজি আম মাত্র দেড় টাকা ভাড়ায় ঢাকায় নিয়ে যেতে পারবেন। একই ট্রেনে প্রতি কেজি আম মাত্র এক টাকা ত্রিশ পয়সা ভাড়ায় ঢাকায় নিয়ে যাওয়া যাবে রাজশাহী থেকে। ঢাকায় পৌঁছানোর পর ব্যবসায়ীদের সুবিধা মতো স্টেশনে ট্রেন থামানো হবে। রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিস সাধ্যমতো কম খরচে ঢাকায় আম নিবে।  এর আগে কখনো ট্রেনে এভাবে আম ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়নি। কিন্তু এবারের করোনা পরিস্থিতিতে সরকার ট্রেনে আম পরিবহনের ব্যবস্থা করায় খুশি চাষি ও ব্যবসায়ীরাও। তারা বলেন, সড়কে আম পরিবহনে নানা রকম হয়রানির শিকার হতে হয়। ট্রেনে আম পরিবহন করা হলে তারা হয়রানিমুক্ত হবেন।

আম্ফানে রাজশাহীতে ১৫ শতাংশ আম ঝরে পড়েছে

ঘূর্ণিঝড় আম্ফান সাতক্ষীরায় তাণ্ডব চালিয়ে রাজশাহীতে এসে শেষ হয়েছে। এর প্রভাবে বুধবার দিবাগত রাতে রাজশাহীর অন্তত ১৫ শতাংশ আম গাছ থেকে ঝরে পড়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে জেলা কৃষি সম্প্র্রসারণ অধিদপ্তর গণমাধ্যমে এমন তথ্যই দিয়েছে। অবশ্য জেলা প্রশাসক হামিদুল হক সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে রাজশাহীর আম ঝরেছে ২০ শতাংশ। এদিকে ঝড়ে আম ঝরে পড়ায় চাষিদের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে। তারা বলছেন, এবার করোনা ভাইরাস মোকাবিলার প্রভাবে এমনিতেই আম বাজারজাত করায় সমস্যা। দাম নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। এর মধ্যে ঝড়ে আম ঝরে পড়ায় ফলনও কমবে। এতে তারা লোকসানের মুখে পড়বেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শামসুল হক বলেন, রাতেই বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়ে তারাই জেলা প্রশাসককে জানিয়েছিলেন যে ২০ শতাংশ আম ঝরে পড়েছে। তবে সকালে বিভিন্ন বাগান পরিদর্শন করে দেখেছেন, ক্ষতির পরিমাণ আরেকটু কম। শহরে ১০ শতাংশ এবং চারঘাট উপজেলায় এসে ১৫ শতাংশ আম ঝরে পড়ার দৃশ্য দেখেছেন তারা। বাঘা উপজেলায় বাগান বেশি। সেখানে যাচ্ছেন। তারপর আম ঝরে পড়ার প্রকৃত চিত্রটা বলতে পারবেন।