স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া
বগুড়ায় এ বছর বোরো ধানের ফলন ভালো হয়েছে। ধানের ভালো দাম পেয়ে চাষিরাও খুশি। বিশেষ করে ঈদের আগে ধানের ভালো দাম পেয়ে আরো বেশি খুশি তারা। অনেকেই ধান বিক্রির টাকা দিয়ে মাছ-মাংস আর তরমুজের মতো মৌসুমি ফল কিনে বাড়ি ফিরছেন। ধানের হাটগুলোতেও প্রচুর ধানের আমদানি হয়েছে।
উত্তরাঞ্চলের ধানের অন্যতম বড়ো মোকাম বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার রনবাঘা হাটের। সম্প্রতি এই হাটে মণপ্রতি মিনিকেট হিসেবে পরিচিত সরু ধান ৯৮০ থেকে ১ হাজার ১০ টাকা দরে এবং কাটারিভোগ জাতের সরু ধান ৮৫০ থেকে ৮৬০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। আর ব্রি-২৮ জাতের ধান বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকা দরে। ব্যবসায়ী ও আড়তদাররা জানান, এক সপ্তাহ আগে এই হাটে মিনিকেট ও কাটারিভোগ জাতের ধানের মণপ্রতি দাম ছিল যথাক্রমে ৮৪০ থেকে ৯০০ এবং ৭৪০ থেকে ৭৫০ টাকা। আর ব্রি-২৮ জাতের ধান বিক্রি হয়েছে ৬৫০ টাকা দরে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে সব ধরনের ধানের দাম গড়ে ১০০ টাকা করে বেড়েছে। কৃষকেরা বলছেন, গত বছরের তুলনায় এবার বাজার মূল্য ও ফলন দুটোই বেশি। গত বছর বাজার মূল্য ও ফলন দুটোই কম হওয়ায় উত্পাদন খরচ তুলতে না পেরে বিঘাপ্রতি গড়ে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে। এবার ফলন ও দাম দুটোই ভালো পাওয়ায় লাভের মুখ দেখছেন তারা।
বগুড়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এবার ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬১৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৭ লাখ ৭৫ হাজার মেট্রিক টন। অন্যবার এপ্রিল মাসের শুরুতেই ধান কাটা-মাড়াই শুরু হতো। এবার করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে ধান কাটার শ্রমিক সংকটের কারণে এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি থেকে পুরোদমে ধান কাটা-মাড়াই শুরু হয়েছে। কৃষকের খেত থেকে ধান কাটা মাড়াই এখন শেষ প্রায়। হাটবাজারে বোরো ধানের কেনাবেচাও এখন শেষের দিকে। কৃষকেরা বলছেন, নন্দীগ্রাম উপজেলায় এবার ভারতীয় মিনিকেট জাত, কাটারিভোগ, ব্রি ধান-২৮, ব্রি-ধান-৬২, বীনা-৭, ব্রি-ধান-৫৮ জাতের বোরো ধান চাষাবাদ হয়েছে। গড়ে প্রতি বিঘায় এবার ২০ মণ ধান ফলন হয়েছে। গত মৌসুমে ধানের ফলন ছিল ১৫ থেকে ১৭ মণ। বগুড়ার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবুল কাশেম আযাদ বলেন, এবার বোরোর বাম্পার ফলনের পাশাপাশি বাজার মূল্যও ভালো। ফলে কৃষক বোরো চাষ করে লাভবান হচ্ছে।