রায়পুরে করোনা শনাক্ত ৩৪ জনের মধ্যে উপসর্গ নেই ২৬ জনের

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার, নার্স ও জনপ্রতিনিধিসহ করোনায় আক্রান্ত ৩৪ জনের মধ্যে ২৬ জনেরই বড় ধরনের কোন উপসর্গ নেই।

উপসর্গবিহীন আক্রান্তের সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে অনেকেই মধ্যেই আতঙ্ক বিরাজ করছে। কার মাধ্যমে করোনা সংক্রমণ হচ্ছে সেটা বোঝাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জসহ অন্য জেলা থেকে আসা এবং হাসপাতালের ডাক্তার ও নার্সসহ কর্মচারীদের বাধ্যতামূলকভাবে করোনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। উপজেলায় প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় ৪ মে ১৩ বছরের এক শিশুর। সে রায়পুরেই থাকতেন। বিদেশ, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকেও ওই বাড়ীতে কেউ আসেনি। ওই শিশু ছেলের কোনও উপসর্গ ছিল না। কি ভাবে ছেলেটি করোনা আক্রান্ত হলো এটা আজও  শনাক্ত হয়নি। প্রথম ১৩ বছরের ওই শিশুর সংস্পর্শে এসে আরও ১৪ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। তারা একই বাড়ির আত্মীয়স্বজনসহ আশপাশের বাসিন্দা। কিন্তু তাদের মধ্যে কারও উপসর্গ নেই। ১২ মে উপসর্গ বিহীন রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন ল্যাব টেকনিশিয়ান, ৪ জন ডাক্তার ও নার্সসহ মোট ৮ জন করোনা আক্রান্ত বলে শনাক্ত হন। পরদিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরও দু’জন আক্রান্ত হন। এর পর করোনা শনাক্ত হয় উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান। প্রতিদিনই বাড়তে থাকে করোনা আক্রান্তের হার। তবে কারও কোনও ধরনের উপসর্গ ছিল না। সন্দেহের বসে পরীক্ষা করে করোনা পজিটিভ হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। এখন পর্যন্ত আক্রান্তদের মধ্যে ২৬ জনের উল্লেখযোগ্য ধরনের কোন উপসর্গ না থাকায় তারা বাড়িতেই আইসোলেশনের রয়েছেন। উপসর্গ বিহীন আক্রান্তের সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে অনেকেই মাঝেই আতঙ্ক বিরাজ করছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ জাকির হোসেন বলেন, উপজেলায় মোট ৩৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ১০ জন ডাক্তার নার্স, টেকনিশিয়ান ও সেবক সেবিকা রয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ২৬ জনের কোনও উপসর্গ ছিল না। তিনি বলেন, বর্তমানে করোনায় আক্রান্তদের উপসর্গ থাকতে পারে, আবার নাও থাকতে পারে। তবে রায়পুর করোনা আক্রান্ত সবাই সুস্থ আছেন ভালো আছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরীন চৌধুরী বলেন, পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যানের  কোনও ধরনের করোনার উপসর্গ ছিল না। তিনি বলেন, করোনায় আক্রান্ত জনপ্রতিনিধি বাসায় আইসোলেশনে আছেন।

ইত্তেফাক/এমআরএম