এক দিনে রেকর্ড ২৪ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪৩২ জন। গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আরো ১ হাজার ৬৯৪ জনের মধ্যে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ায় দেশে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩০ হাজার ২০৫ জন। সারাদেশে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আরো ৫৮৮ জন। সব মিলয়ে এ পর্যন্ত মোট ৬ হাজার ১৯০ জন সুস্থ হয়ে উঠলেন।
নিয়মিত বুলেটিনে যুক্ত হয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা শুক্রবার দেশে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির এই সবশেষ তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গত এক দিনে যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ১৩ জন ঢাকা বিভাগের, ৯ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, এক জন বরিশাল বিভাগের এবং এক জন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন। এই ২৪ জনের মধ্যে এক জনের বয়স ছিল ৮০ বছরের বেশি। এছাড়া দুই জনের বয়স ছিল ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে, ছয় জনের বয়স ছিল ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে, পাঁচ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, দুই জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, তিন জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে এবং ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ছিলেন পাঁচ জন। তাদের মধ্যে হাসপাতালে মারা গেছেন ১৫ জন, বাড়িতে মারা গেছেন আট জন এবং এক জনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল বলে জানান ডা নাসিমা সুলতানা। তিনি বলেন, শনাক্ত রোগীর সংখ্যার বিবেচনায় সুস্থতার হার ২০ দশমিক ৪৯ শতাংশ, মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, করোনা ভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৯ হাজার ৯৯৩টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। দেশের ৪৭টি ল্যাবে পরীক্ষা করা হয় ৯ হাজার ৭২৭টি নমুনা। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো ২ লাখ ২৩ হাজার ৮৪১টি। গত বৃহস্পতিবারের বুলেটিনে জানানো হয়, করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ২২ জন মারা গেছেন, যা এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড ছিল। ১০ হাজার ২৬২টি নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয় এক হাজার ৭৭৩ জনের দেহে, যা এক দিনে সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড। সেই হিসাবে আগের ২৪ ঘণ্টার তুলনায় গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত রোগী কমলেও হয়েছে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। ডা. নাসিমা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে আরো ২২৫ জনকে এবং বর্তমানে আইসোলেশনে রয়েছেন ৪ হাজার ৬০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৬২ জন এবং এ পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন ২ হাজার ২৮ জন। সারাদেশে আইসোলেশন শয্যা আছে ১৩ হাজার ২৮৪টি। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকায় ৭ হাজার ২৫০টি এবং ঢাকার বাইরে আছে ৬ হাজার ৩৪টি। সারাদেশে আইসিইউ শয্যা আছে ৩৯৯টি এবং ডায়ালাইসিস ইউনিট আছে ১০৬টি। গত ২৪ ঘণ্টায় হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে ২ হাজার ৫৬০ জনকে। এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৯৪ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড় পেয়েছেন ২ হাজার ১৯ জন। এ পর্যন্ত মোট ছাড় পেয়েছেন ২ লাখ ৩ হাজার ১৭১ জন। বর্তমানে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৫৪ হাজার ৯২৩ জন। দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের জন্য ৬২৬টি প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাত্ক্ষণিকভাবে সেবা দেওয়া যাবে ৩১ হাজার ৮৪০ জনকে। বুলেটিনে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়।