ঈদের চাঁদের অপেক্ষায় থাকবে আজ দেশবাসী

 ‘ও মন রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ...।’ শেষ হয়ে এলো ক্ষমা-রহমতের অমিয়ধারায় সিক্ত মাহে রমজান। এখন মানুষের মনপ্রাণ উছলে উঠছে ঈদের আনন্দ রোশনাইয়ে। এক মাস সিয়াম সাধনা শেষে খুশির সওগাত নিয়ে আসছে ঈদুল ফিতর। তবে করোনা মহামারির মধ্যে এবার ভিন্ন প্রেক্ষাপটে উদ্যাপিত হবে ঈদ।

আজ শাওয়ালের চাঁদ দেখা গেলে আগামীকাল রবিবার সারাদেশে যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উত্সাহ-উদ্দীপনায় উদ্যাপিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর। তবে ৩০ রোজা হলে ঈদ হবে সোমবার। এখন দেশবাসী ঈদের চাঁদের অপেক্ষায় অধীর আগ্রহে প্রহর গুনছে। কিন্তু করোনাকালে এই ঈদের আনন্দ অনেকটা অনুষঙ্গহীন হচ্ছে। ঈদগাহে জামাত হবে না, মানুষ কোলাকুলি করতে পারবে না। আত্মীয়স্বজনের বাসাবাড়িতে যাওয়া-আসা সীমিত থাকবে। বহু মানুষ শহর থেকে গ্রামে যেতে পারেনি, প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ করতে পারছে না।

আজ শনিবার সন্ধ্যায় (বাদ মাগরিব) ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মুকাররম সভাকক্ষে চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক বসবে। সভাপতিত্ব করবেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ মো. আব্দুল্লাহ। প্রিয়নবি হজরত মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘চাঁদ দেখে রোজা পালন করবে এবং চাঁদ দেখে ঈদ উদ্যাপন করবে।’

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি পৃথক বিবৃতিতে দেশবাসীর প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছে।

ঈদুল ফিতর আরবি শব্দ, যার অর্থ হচ্ছে উত্সব, আনন্দ, খুশি। ঈদের চাঁদ দেখামাত্র ছোটো-বড়ো, ধনী-গরিব, প্রতিটি মুসলমানের হূদয় আনন্দে উদ্বেল হয়ে ওঠে। এই দিনে ধনী-গরিব, বাদশা-ফকিরনির্বিশেষে সব মুসলমান এক কাতারে ঈদের নামাজ আদায় করেন, একে অপরের সঙ্গে সালাম বিনিময়, কোলাকুলি করেন। ঈদ মুসলিম উম্মাহর জাতীয় উত্সব। ঈদুল ফিতরের দিনটি প্রতিটি মুসলমান নারী ও পুরুষের জীবনে তাত্পর্য ও মহিমায় অনন্য।

ঈদ বাংলাদেশে সর্বজনীনতা লাভ করেছে। ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায়নির্বিশেষে যে শ্রেণির লোকই হোক, তাকে ঈদের আনন্দে শরিক করা কর্তব্য। নামাজে যাওয়ার আগে যে কোনো মানুষের সঙ্গে পূর্বশত্রুতা, বিবাদ-বিসংবাদ, মনোমালিন্য প্রভৃতি মিটিয়ে ফেলা উচিত। ঈদের আগেই প্রতিটি সামর্থ্যবান মুসলমানকে জাকাত ও সাদকায়ে ফিতর দিতে হবে। এটা আল্লাহর বিধান। এটা রোজাকে পরিশুদ্ধ করে।