লাখ লাখ টাকার পণ্য নদীতে ফেললেন ভাণ্ডারিয়া বাজারের ব্যবসায়ীরা

ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে পানির তীব্রতা বৃদ্ধির ফলে পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় ঐতিহ্যবাহী ভাণ্ডারিয়া বাজারের বহু ব্যবসায়ীর লাখ লাখ টাকার মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে। গতকাল শুক্রবার ঐসব ব্যবসায়ী তাদের দোকান এবং গোডাউন খুলে দুর্গন্ধযুক্ত নষ্ট মালামাল বাজার লাগোয়া পোনা নদীতে ফেলে দিয়েছেন। সরেজমিনে দেখা যায়, বাজারের পশ্চিম দিকে বহমান কঁচা নদীর শাখা পোনা নদী এবং দক্ষিণ দিক থেকে পূর্ব দিকে পোনা নদীর শাখা ভূবনেশ্বর খাল লাগোয়া সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত পানি ওঠার ফলে ঐসব ব্যবসায়ীদের দোকান এবং গোডাউনে থাকা মালামাল ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। গতকাল তা থেকে দুর্গন্ধ আসা শুরু হওয়ায় সেগুলো নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।

ব্যবসায়ী গোপাল চন্দ্র সাহা জানান, তার তিনটি গোডাউনে চিনি, ডাল, মুদিমালসহ বিভিন্ন ধরনের প্রায় ২০ লাখ টাকার শুকনো খাবার গুদামজাত করা ছিল। আম্ফানের সৃষ্ট জোয়ারে সব নষ্ট হয়ে গেছে। পূবালী ব্যাংক এবং মার্কেন্টাইল ব্যাংক থেকে গোপাল ২০ লাখ টাকা  লোন নিয়ে ব্যবসায় করে আসছিলেন। অপর এক মনোহারি ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলমকেও দেখা যায় পানিতে নষ্ট হওয়া মালামাল নদীতে ফেলে দিতে। একই কাজ করেছেন আরো বহু ব্যবসায়ী। ঋণ গ্রহীতাদের এ অবস্থা প্রত্যক্ষ করতে ব্যাংকের ক্যাশিয়ার মো. হেলাল উদ্দিনকে সেখানে দেখা যায়।

বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মো. মিজানুর রহমান নিপু জোমাদ্দার জানান, বুধবার রাতে আম্ফানের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় ফুট বৃদ্ধি পাওয়ায় পানি বাজারের বিভিন্ন দোকানে ঢুকে পড়ে। এতে তাদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এই ঘূর্ণিঝড় সৃষ্ট জোয়ারে সর্বস্বান্ত হয়ে গেছেন বহু ব্যবসায়ী। ভাণ্ডারিয়া সাবেক সদর ইউপি চেয়ারম্যান এবং পৌর কাউন্সিলর মো. গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার বলেন, বাজারের উত্তরে স্থানীয় লঞ্চঘাট থেকে দক্ষিণে ভূবনেশ্বর ব্রিজ হয়ে মহিলা কলেজের ব্রিজ পর্যন্ত শহর রক্ষাবাঁধ অতি জরুরি হয়ে পড়েছে। বাজারের ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে এ শহর রক্ষাবাঁধের দাবি করে আসছে। বাঁধটি না হলে ভবিষ্যতেও তাদের একই পরিণতির শিকার হতে হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।