করোনা ভাইরাস ‘প্রতিরোধী’ ডিভাইস তৈরির শেষ পর্যায়ে গবেষককে বদলি!

করোনা ভাইরাস ‘প্রতিরোধী’ ডিভাইস তৈরির শেষ পর্যায়ে এর মূল গবেষক বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (শেবাচিম) মেডিসিন বিভাগের রেজিস্ট্রার ডা. এইচ এম মাসুম বিল্লাহকে বদলি করা হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় শেবাচিম হাসপাতাল থেকে তাকে ভোলা জেলা হাসপাতালে বদলি করে ১৯ মে (সোমবার) সেখানে যোগদানের আদেশ দেয়। এতে করে শেষ পর্যায়ে ডা. এইচ এম মাসুম বিল্লাহর করোনা প্রতিরোধী ডিভাইস তৈরির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। অথচ এরই মধ্যে বাংলাদেশ চিকিত্সা গবেষণা পরিষদ তার প্রটোকল রিসিভ করে গবেষণা চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি প্রদান করে। ডা. মাসুম বিল্লাহ শেবাচিম হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডসহ মেডিসিন ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালন শেষে দিন-রাত পরিশ্রম করে গবেষণা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছিলেন। গত ১৪ মে  চিকিত্সা গবেষণা পরিষদের অনুমোদনের চিঠি পেয়ে তার কাজের গতি আরো বেড়ে যায়। সম্পূর্ণ ব্যক্তি উদ্যোগে চিকিত্সা গবেষণা পরিষদের অনুকূলে নিয়মমাফিক ১৭ মে ৫০ হাজার টাকা সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে প্রেরণ করেন তিনি। ১৯ মে’র ঐ বদলির আদেশ না আসলে ডিভাইস তৈরির কার্যক্রম শুরু হবার কথা ছিল চলতি সপ্তাহেই।

শেবাচিম হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মেডিসিন বিভাগের রেজিস্ট্রারকে ডা. এইচ এম মাসুম বিল্লাহ তার গবেষণা কার্যক্রম শুরু করার পর থেকেই মেডিক্যাল কলেজ থেকে কিট সংকট দেখিয়ে তাকে নিরুত্সাহিত করা হয়। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের একান্ত সহযোগিতায় তার কাজ প্রায় শেষের পথে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, কারো রোষানলে পড়ে মাসুম বিল্লাহকে বদলি করা হতে পারে। তার এই আকস্মিক বদলির আদেশে এ ডিভাইস তৈরির কার্যক্রম থমকে যাবে। কেননা এ ধরনের গবেষণা সফল করতে এবং ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য যে ধরনের হাসপাতাল ও আনুষঙ্গিক ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন তা ভোলাতে নেই।

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন বলেন, ডা. এইচ এম মাসুম বিল্লাহ করোনা ভাইরাস প্রতিরোধী ডিভাইস তৈরির কার্যক্রম সফলভাবে সমাপ্ত হলে জনসাধারণের জন্য সুফল বয়ে আনবে। ডা. এইচ এম মাসুম বিল্লাহ ইত্তেফাককে জানান, তার গবেষণা অনুযায়ী এ ডিভাইস ব্যবহারে করোনা আক্রান্ত রোগীর নিঃশ্বাস থেকে নির্গত করোনা ভাইরাস নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে। তার বদলিতে এই গবেষণা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তিনি বিষয়টি লিখিতভাবে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে জানাবেন এবং বদলি প্রত্যাহার চেয়ে আবেদন করবেন।