জয়পুরহাটে গুলেইন বারি সিনড্রোমে ৫ জনের মত্যু

জেলায় হঠাত্ করে প্রাণঘাতী গুলেইন বারি সিনড্রোম (জিবিএস) রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। দেড় মাসে জেলায় জিবিএস রোগে আক্রান্ত ১২ জনের মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এ অবস্থায় রাজধানীর মহাখালীর রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পাঁচ সদস্যের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত টিম বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান চালাচ্ছে।

সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, জিবিএস রোগে আক্রান্ত হলে রোগীর হাত-পাসহ সারা শরীর অবশ হয়ে যায়। এরপর দেখা দেয় শ্বাসকষ্ট এবং পরের ধাপে মৃত্যু হচ্ছে। জয়পুরহাটে হঠাত্ করে এ রোগের প্রকোপ দেখা যাওয়ায় বিষয়টি স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ আইইডিসিআর’কে জানায়। ডা. সোহেল রহমানের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি অনুসন্ধান দল ৯ নভেম্বর থেকে জরুরিভিত্তিতে তদন্ত কাজ শুরু করে। তদন্তে ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত জেলায় জিবিএস রোগে আক্রান্ত হওয়া ১২ জনের সন্ধান পাওয়া যায়। যার মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।

ডা. সোহেল রহমান জানান, এ রোগের উত্স বা কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত টিম জীবিত রোগীদের রক্ত, পায়খানা, গলা ও নাকের সর্দি-কফ নমুনা হিসাবে সংগ্রহ করেছে। এ রোগ সংক্রামক বা ছোঁয়াচে নয় এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত চিকিত্সা দিলে ভালো হয় বলেও জানান তিনি। পচাবাসি খাবার পরিহার করে ব্যক্তিগত পরিষ্কার—পরিচ্ছন্নতাসহ নিরাপদ খাবার গ্রহণের আহ্বান জানান এই চিকিত্সক।

জানা গেছে, জ্বর, সর্দি, কাশি ও ডায়রিয়ায় অনেকে চিকিত্সকের কাছে না গিয়ে হাতুড়ে ডাক্তার বা ঝাড় ফুঁক দিয়ে রোগ ভালো করার চেষ্টা করেন। অথচ এ সকল সাধারণ রোগ বা উপসর্গ থেকেই হতে পারে প্রাণঘাতী এক রোগের, যা গুলেইন বারি নিসড্রোম (জিপিএস)  নামে পরিচিত। এ রোগটি সম্পর্কে অনেক মানুষই জানে না। 

মৃত পাঁচ জন হচ্ছেন আক্কেলপুর উপজেলার সাহেবপাড়ার অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মারুফ, সদরের দড়িপাড়া গ্রামের আব্দুল হাকিম (৫২), জেলা শহরের বাড়িধারার পিংকি রানী সাহা (২২), আক্কেলপুরের কেশবপুর এলাকার হেলাল উদ্দিন সরদার (৫৫) ও সদর উপজেলার মাধাইনগর এলাকার তাহমিদ জামান (২০)।