করোনার কারণে মাদারগঞ্জের শত বছরের ঈদ মেলা হচ্ছে না 

করোনা পরিস্থিতিতে মাদারগঞ্জ উপজেলার শত বছরের বালিজুড়ি ঈদ মেলা এবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। সে কারণে মাদারগঞ্জ উপজেলাবাসীর ঈদ আনন্দ অনেকাংশে ভাটা পড়েছে। মাদারগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ও ঈদ মেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মির্জা গোলাম কিবরিয়া কবির জানান, করোনা পরিস্থিতির কারণে এবারের মেলা স্থগিত করা হয়েছে। কারণ মেলা উপলক্ষে এখানে লক্ষাধিক লোকের সমাগম ঘটে। এবং বিভিন্ন জেলা থেকে পণ্য নিয়ে দোকানীরা ভিড় করে, সে জন্য এই মেলা স্থগিত করা হয়েছে।

১৯৪৭ সালে দাঙ্গা ও ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার যুদ্ধের সময় এই মেলাটি বন্ধ ছিলো। ১৯১৭১ সালের পর এই প্রথম এবার মেলাটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। জানা যায়, ১৭শ খ্রিষ্টাব্দে উত্তরাঞ্চলে  সন্ন্যাসী ফকির বিদ্রোহ চলছিলো। তখন ঐ অঞ্চলের এক চেটিয়া সন্ন্যাসীদের দখলে ছিলো। সন্ন্যাসীরা যমুনার চরাঞ্চলের ঘাটি করে ইংরেজদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হতেন। তখনি তারা বগুড়া জেলার গাবতলী মহিষাবান এর গোলাবড়ি এলাকায় গাড়িদহ নদীর পাড়ে বটতলায় একটি মন্দির স্থাপন করেন এবং সন্ন্যাসী পূজা করতেন।

ঐ  একই সময় তারা মাদারগঞ্জ এলাকায় গমন করেন এবং বালিজুড়ি দহ পাড়া এলাকায় বিলের ধারে একটি মন্দির স্থাপন করেন। বালিজুড়ি সন্ন্যাসী দহে বট তলায় হিন্দুদের সন্ন্যাসী পূজা উপলক্ষে একটি মেলা অনুষ্ঠিত হতো। একবার ঈদ ও পূজারমেলা একই দিনে অনুষ্ঠিত হওয়ায় মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে দাঙ্গা শুরু হওয়ার উপক্রম হয়।  সেই সময় ১৯২৫ সালের দিকে এলাকার মুসলিম নেতৃবৃন্দ ঐ মেলার আদলে বালিজুড়ি এফ, এম উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে ঈদ উল ফিতরের দিনে ইসলামী ঈদ মেলা প্রতিষ্ঠা করেন। সেই থেকে প্রতিবছর ঈদ উল ফিতরের দিন থেকে ৩ দিন থেকে ৪ দিন এই মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ রকমের মেলা দেশের কোথাও নেই বলে জানা গেছে। 

মেলায় কৃষি পণ্য, মাটির জিনিস, টেপা পুতুল, মৃৎ শিল্পের বিভিন্ন খেলনা সামগ্রী, বাঁশ ও বেতের সাংসারিক জিনিস, কামারদের নানান লোহা সামগ্রী, কাঠের লাঙ্গল, লাঙলের বিভিন্ন উপকরণ, বীজ, প্লাস্টিক খেলনা, মেয়েদের চুড়ি, ফিতা , আলতা, কসমেটিক সামগ্রী, কাগজ ও শোলার বিভিন্ন খেলনা,ইদানিং কাঠের আসবাবপত্র মেলায় পাওয়া যায়। তার সাথে নাগরদোলা শিশুদের বাড়তি পাওনা। মেলায় সবচেয়ে বেশী দোকান উঠে লোক খাবার ও মিষ্টির। মেলার পাশে একটি গ্রামে যুগ যুগ ধরে কারিগররা হাতের নৈপুণ্যে জিলাপি,গজা, বাতাসা, সাজ, মুড়কি,মোয়া, বুন্দিয়া, রং বে রং এর মিষ্টি থালার সাজিয়ে রেখে দেয়। এই ঐতিহ্যবাহী মেলায় সব চেয়ে বেশী বিক্রি হয় মিষ্টি জাতীয় জিনিসের।

ইত্তেফাক/এসআই