হুমায়ূন আহমেদ তার চিন্তা, চেতনা, বুদ্ধিমত্তা সবকিছু তার সাহিত্যকর্মের মধ্যে রেখে গেছেন। তার সৃষ্ট সাহিত্যকর্মের জন্যই তিনি নন্দিত কথাসাহিত্যিক। তার সৃষ্টির মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ তৈরি করে গেছেন। লেখার মাধ্যমেই তিনি চির অমর হয়ে থাকবেন।
গতকাল মঙ্গলবার কথার জাদুকর হুমায়ূন আহমেদের ৭০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দিনব্যাপী আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। তিনি চলে গেলেও তার জন্মদিনে কেনো দুঃখের আয়োজন থাকবে না। কারণ তিনি আজীবন জীবনের জয়গান গেয়েছেন। তাই নাচ, গান, কথামালা, ছবি আঁকার মধ্যদিয়ে উদযাপিত হলো হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন। এ উপলক্ষে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে সপ্তমবারের মতো হুমায়ূন আহমেদ স্মরণে ‘হুমায়ূন মেলা’ অনুষ্ঠিত হয়।
সকালে হিমুপ্রেমিরা হলুদ পাঞ্জাবি গায়ে হলুদ বেলুন উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম, রামেন্দু মজুমদার, নাসির উদ্দীন ইউসুফ, কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন, চ্যানেল আইয়ের পরিচালক ও বার্তাপ্রধান শাইখ সিরাজ, পরিচালক জহির উদ্দিন মাহমুদ মামুন ও মুকিত মজুমদার বাবু, আনোয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ার হোসেন, জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমেদ ও নির্বাহী পরিচালক মনিরুল হক, অন্যপ্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম প্রমুখ। হুমায়ূন আহমেদ স্মরণে কথা বলেন- স্কয়ার গ্রুপের চেয়ারম্যান অঞ্জন চৌধুরী, চলচ্চিত্র প্রযোজক একেএম জাহাঙ্গীর খান, অধ্যাপক নূরজাহান সরকার প্রমুখ।
এদিন উন্মুক্ত মঞ্চে পরিবেশিত হয় হুমায়ূন আহমেদের লেখা গান। সংগীত পরিবেশন করেন- ফকির আলমগীর, রফিকুল আলম, আকরামুল হক, চন্দনা মজুমদার, কিরণ চন্দ্র রায়, আগুন, সেলিম চৌধুরী এবং চ্যানেল আই সেরাকণ্ঠ, ক্ষুদে গানরাজ ও বাংলার গানের শিল্পীরা। আরও ছিল নৃত্য পরিবেশনা, ছিল হুমায়ূন আহমেদের বইয়ের স্টলসহ অন্যান্য সামগ্রীর স্টল। মেলায় ছোট্ট শিশুরা ছবি এঁকে হুমায়ূন আহমেদের প্রতি তাদের ভালোবাসা প্রকাশ করে। মেলার পৃষ্ঠপোষকতা করেছে আনোয়ার সিমেন্ট। সহযোগিতায় ছিল নূর ইকোব্রিক্স। এদিকে জাতীয় জাদুঘরে কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে ‘হুমায়ূন সাহিত্যে বাঙালির জীবন ও সমাজ’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় জাদুঘর এই সেমিনারের আয়োজন করে। সেমিনারে ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কথাসাহিত্যিক মুম রহমান। হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে আলোচনা করেন স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন, অভিনেতা ডা. এজাজ আহমেদ প্রমুখ। এতে সভাপতিত্ব করেন কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন।
নুহাশপল্লীতে ভক্তদের ভিড়
গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, গাজীপুর সদর উপজেলার পিরুজালীতে নুহাশপল্লীতে হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন পালিত হয়েছে। দিনব্যাপী ভক্তদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। সোমবার রাত ১২টা এক মিনিটে কেক কেটে এবং প্রায় দুই হাজার মোমবাতি প্রজ্বালন করে পুরো নুহাশপল্লীকে আলোকিত করা হয়। ওই রাতেই হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওনের ছেলে নিষাদ ও নিনিতকে নিয়ে নুহাশপল্লীতে আসেন। গতকাল সকাল ১০টার দিকে শাওন হুমায়ূন আহমেদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাতে অংশ নেন। পরে নুহাশপল্লীর হোয়াইট হাউজের সামনে জন্মদিনের কেক কাটা হয়।
এসময় শাওন সাংবাদিকদের বলেন, দূর দূরান্ত থেকে হুমায়ূন ভক্তরা আসেন। যারা সব সময় নুহাশপল্লীর যাতায়াতের রাস্তার কথাটা বলেন। প্রতিবছর বর্ষায় রাস্তা ভেঙে যায়। চলাচলের খুব অসুবিধা হয়। নুহাশপল্লী আসার রাস্তাটার দিকে কর্তৃপক্ষ নজর রাখবেন এটাই হুমায়ূন আহমেদ ভক্তদের চাওয়া। অপরদিকে সকাল থেকেই হুমায়ূন আহমেদের ভক্তরা নুহাশপল্লীতে আসতে শুরু করেন। তারা প্রিয় লেখকের কবরে ফুল দেন এবং তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। জন্মদিন উপলক্ষে নুহাশপল্লীর ভাস্কর আসাদ খান তার দ্বিতীয় একক শিল্পকর্ম প্রদর্শনী করেন। এতে কাঠ দিয়ে তার তৈরি ৭০টি শিল্পকর্ম প্রদর্শন করা হয়। এদিকে তার ভক্তদের সংগঠন হিমু পরিবহনের উদ্যোগে গাজীপুরে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। সকালে ক্যান্সার সচেতনতামূলক ৩০ জনের একটি সাইকেল র্যালি জেলা শহর থেকে নুহাশপল্লীতে যায়। পথিমধ্যে তারা সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করে।