কলাপাড়ায় সমুদ্র উপকুলীয় এলাকার সংরক্ষিত বনাঞ্চলে ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীর রাখাইন যুবকদের বন্য প্রানী শিকারের মচ্ছোব চলছে। এয়ারগান, শর্টগান, ল্যাজা, চল, কোষ এং ফাঁদ পেতে বিলুপ্ত প্রায় পশু-পাখি বছরের পর বছর শিকার করা হচ্ছে। বন্যপ্রানী শিকার করতে এরা অস্ত্রের পাশাপাশি শিকারী কুকুরও ব্যবহার করছেন। তবে বন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘হাতেনাতে ধরলে পাড়লে ব্যবস্থা নেবো’।
কুয়াকাটা সমুদ্র উপকূল ভাগে অবস্থিত কুয়াকাটা সংরক্ষিত বন, গঙ্গামতির বন, কাউয়ার চরের বন, লেম্বুর বন, চর মৌডুবী ও সুন্দরবনের পুর্বাংশ ফাতরার বনসহ সমুদ্র উপকুলের সংরক্ষিত বন এবং ম্যানগ্রোভ বনে শুকর, সজারু, গুইসাপ, কুইচ্ছা, ঘুঘু, বক, ডাহুক, শালিক, টিয়াসহ বিলুপ্ত প্রায় বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণী দিনে ও রাতে দল বেঁধে শিকার করছেন ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীর যুবকরা।
জানা গেছে, রাখাইনরা আদিকাল থেকে বন্যপ্রাণী শিকার করে আসছে। এ থেকেই তারা মাংসের চাহিদা পূরণ করছে। এদের মধ্যে অনেকেই জীবিকা হিসেবে বন্যপ্রানী শিকারকে বেছে নিয়েছেন। শিকারী রাখাইন যুবকদের দাবি, স্থানীয় বন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই তারা শিকার করছে।
আরও পড়ুন: গাছ কেটে বেচে দিলেন বিদ্যালয়ের সভাপতি, অভিযোগের পরও নীরব পুলিশ
সরেজমিনে, গত ২২ মে কুয়াকাটা কেরানী পাড়ার শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ বিহার কমিটির নেতা ওয়েন মং উচু, মংচাউ, মোমো, বুজা, অংচান এই পাঁচজন শিকারী মিলে সৈকতের গঙ্গামতি সংরক্ষিত বন থেকে বিলুপ্ত প্রজাতির একটি সজারু ও ১৫টি গুঁই সাপ শিকার করে নিয়ে গেছে। এরা দীঘদিন ধরেই এই বনে শিকার করে চলছের। শুধু কেরানী পাড়ার রাখাইন যুবকরাই নয়, পটুয়াখালী ও বরগুনা সমুদ্র উপকুল ভাগে বসবাসকারী বিভিন্ন পাড়ার রাখাইন যুবকরা জঙ্গলে বন্যপ্রাণী শিকারের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহসহ মাংসের চাহিদা পুরণ করে আসছেন।
সমুদ্র উপকূলের এসব বনে সজারু, চিতাবাঘ, দাসবাঘ, শিয়াল, বানর, বেজি, কাঠবিড়ালী, গুঁইসাপ, অজগর, বন মোরগ, ঘুঘু, সাদা বক, চিল, শালিক, টিয়া, ডাহুক, গড়িয়াল, গাংচিল, চামবাদুড়সহ অসংখ্য বন্যপ্রাণী ও পাখির অভয়াশ্রম ছিল। ঘুর্ণিঝড় ও জলোচ্ছাসে বন ধ্বংস হয়ে যাবার সঙ্গে সঙ্গে বেশির ভাগ বন্য পশু-পাখিও ধ্বংস হয়ে গেছে। ঝড় বন্যা ও শিকারীদের সঙ্গে লড়াই করে এখনও বিলুপ্ত প্রজাতির কিছু পশু-পাখি টিকে রয়েছে। এরা সংখ্যায় খুবই কম।
উপকূলীয় বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক মোল্লা লতিফুর রহমান লতিফ বলেন, যেসব বন্যপ্রাণী এখনও নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে বেঁেচ আছে তাদের সংরক্ষণ জরুরি।
প্রকৃতি প্রেমী কেএম বাচ্চু বলেন, বিলুপ্ত প্রায় কিছু সংখ্যক বন্যপ্রাণী দেখা গেলেও রাখাইনদের শিকারের ফাঁদে এগুলো বিলুপ্ত হতে চলেছে। বনবিভাগের চোখের সামনেই প্রতিনিয়ত শিকার করে চলছে।
পটুয়াখালী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, বনবিভাগের বন থেকে বন্যপ্রাণী শিকারের বিষয় তিনি কিছুই জানেন না। শিকারীদের হাতে নাতে ধরতে পারলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইত্তেফাক/এসি