করোনা মহামারিতে ত্রাণের চাল চুরি নিয়ে এখনো হট্টগোল চলছে। এর মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর নগদ সহায়তা কার্যক্রমে উপকারভোগীদের তালিকায় অনিয়ম দেখা দিয়েছে। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে বারবার এমন ঘটনা সত্যিই দুঃখজনক! প্রকাশিত খবরে যা দেখলাম, তালিকায় একই মোবাইল নম্বর ভিন্ন নামে ব্যবহার হয়েছে সর্বোচ্চ ২০০বার পর্যন্ত! এছাড়াও নাকি যুক্ত হয়েছে অনেক বিত্তশালী ও জনপ্রতিনিধির আত্মীয়স্বজনের নাম। রয়েছেন স্বামী-স্ত্রীসহ একই পরিবারের একাধিক সদস্যও। ফলে তালিকা প্রণয়নে স্থানীয় পর্যায়ে অনিয়ম ও বিতরণে অদক্ষতা এবং সমন্বয়হীনতা পুরো কার্যক্রমকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। প্রতি পরিবারে ধরা হয়েছে চারজন সদস্য, সেই হিসাবে এই নগদ সহায়তায় উপকারভোগী হবে ২ কোটি মানুষ। প্রতিদিন ১০ লাখ মানুষ নগদ সহায়তা পাওয়ার কথা এবং পুরো তহবিল ১৪ থেকে ১৮ মে-র মধ্যে বিতরণ শেষ করারও কথা ছিল। করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে মহা সংকটে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। তাঁদের জন্যই প্রধানমন্ত্রীর নগদ টাকা দেওয়ার উদ্যোগ। এটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। কিন্তু অনিয়মের যে খবর পাওয়া যাচ্ছে, তাতে বঞ্চিত হবেন অনেক অসহায় মানুষ! এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত, এটা ভেবে বিস্মিত না হয়ে পারি না! প্রশাসন এবং পুলিশ-র্যাবের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বটে, কিন্তু তারপরও থামছে না অনিয়ম! সত্যিকার অর্থে যাদের সহায়তা প্রয়োজন তারা যাতে উপকৃত হতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে সহায়তাপ্রাপ্ত সবার তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা জরুরি বলে মনে করছি।
মেনহাজুল ইসলাম তারেক
পার্বতীপুর, দিনাজপুর