করোনায় যুক্তরাষ্ট্রেই মারা গেল ১ লাখের বেশি

করোনার ভাইরাস সংক্রমণে চার মাসের কম সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে মৃতের সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়েছে। একক দেশ হিসেবে করোনা ভাইরাস সংক্রমণে যুক্তরাষ্ট্রে মৃতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা এখন প্রায় ১৯ লাখ।

চারটি যুদ্ধে নিহত সৈন্যের চেয়েও বেশি

পুরো বিশ্বে যত মানুষ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে তার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছে ৩০ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসেবে অনুযায়ী, দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ১ লাখ ৪৬৭ জন। গত ২১ জানুয়ারি ওয়াশিংটনে প্রথম করোনার সংক্রমণ ধরা পড়ে। বিশ্ব জুড়ে গতকাল পর্যন্ত ৫৭ লাখের বেশি মানুষ কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত এবং মারা গেছে ৩ লাখ ৫৬ হাজার ২৭৯ জন। বিবিসির উত্তর আমেরিকা বিষয়ক সম্পাদক জন সোপেল বলেন, করোনায় যুক্তরাষ্ট্রে যত মানুষ মারা গেছে, সেটি গত ৪৪ বছর যাবত্ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, ইরাক এবং আফগানিস্তান সংঘাতের সময় আমেরিকার নিহত সৈন্যের সমান। এর মধ্যেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আগামী ৪ জুলাই স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপনের চিন্তা করছেন।

আমেরিকার ২০টি অঙ্গরাজ্যে নতুন করে সংক্রমণের সংখ্যা বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এসব অঙ্গরাজ্য হচ্ছে—নর্থ ক্যারোলিনা, উইসকনসিন এবং আরকানসাস। শিকাগো, লস অ্যাঞ্জেলস এবং ওয়াশিংটনের মতো শহরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ এখনো বেশি। তবে নিউ ইয়র্কে সংক্রমণ মারাত্মক আকার ধারণ করলেও মৃত্যুর হার কমছে। নিউ ইয়র্কে মৃতের সংখ্যা ২৯ হাজার ৪৮৪ জন। করোনায় সংক্রমণ ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ায় দেশটির প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কড়া সমালোচনার মুখে পড়েছেন। ট্রাম্পের পালটা দাবি, তার প্রশাসন পদক্ষেপ না নিলে মৃতের সংখ্যা ২৫ গুণ বেশি হতে পারতো। কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় বলছে,        আগে পদক্ষেপ নিলে মৃতের সংখ্যা ৩৬ হাজার কম হতে পারতো।

ঝুঁকিতে ল্যাতিন আমেরিকা

নতুন করোনার হটস্পট হয়ে উঠছে ল্যাতিন আমেরিকা। সম্প্রতি প্যান আমেরিকান হেলথ অর্গানাইজেশনের (পিএএইচও) পরিচালক ডা. কারিসা ইতিয়েন বলেছেন, দৈনিক সংক্রমণের দিক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপকে ছাড়িয়ে গেছে ল্যাতিন আমেরিকার দেশগুলো। এরই মধ্যে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশে প্রায় ২৫ লাখ মানুষ নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে। প্রায় ৪৩ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে। আগামী ১৫ জুনের মধ্যে ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে সীমান্ত খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে জার্মানি। ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মনে করেন, সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে সেই দিনটি হবে ইউরোপের পর্যটন শিল্পের ‘ডি-ডে’। গত ১৭ মার্চ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করে ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করে দেয় জার্মানি।— বিবিসি ও ডয়চেভেলে