সংক্রমণ আরো বাড়ার আশঙ্কা

দেশে করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ ৮১ দিন পেরিয়ে গেছে। এখনো সংক্রমণ বাড়ছেই। দিন দিন নমুনা পরীক্ষা যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে সংক্রমণ শনাক্তের সংখ্যা। গত ছয় দিনে (২৩-২৮ মে) ৫১ হাজার ৯২৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে ১০ হাজার ১১৬ জনের। যা মোট শনাক্তের ২৫ দশমিক ০৮ শতাংশ। এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত হয়েছেন ৪০ হাজার ৩২১ জন। গত ছয় দিনে মারা গেছেন ১২৭ জন। এটি মোট মৃত্যুর ২২ দশমিক ৭১ শতাংশ। করোনায় এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৫৫৯ জন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ এখন কোভিড-১৯ সংক্রমণের ‘পিক’ অর্থাত্ চূড়ার দিকে যাচ্ছে। অর্থাত্ মারাত্মক ঝুঁকির দিকে যাচ্ছে দেশের করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি। আগামী জুন মাস কীভাবে যাবে বলা মুশকিল। তবে মানুষের আচরণ দেখে বোঝা যায় সংক্রমণের সংখ্যা আরো বাড়বে। মানুষ নিয়ম মানতে চায় না। সামাজিক দূরত্ব মেনে চলছে না অনেকেই। এর ওপর শিথিল করা হয়েছে লকডাউন। গণপরিবহনও চালু হচ্ছে। এর আগে পোশাক কারখানা খুলে দেওয়া এবং শপিংমল ও দোকানপাট খুলে দেওয়ার পরে সংক্রমণ বেড়েছিল।

এদিকে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ কমে যাওয়ায় লকডাউন শিথিল বা কড়াকড়ি তুলে নেওয়া হচ্ছে; এমন দেশগুলোতে আবারও সংক্রমণ বেড়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সোমবার সংস্থাটির হেলথ ইমার্জেন্সিজ প্রোগ্রামের নির্বাহী পরিচালক ডা. মাইকেল রায়ান এক ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন।

দেশের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, ঈদের ছুটিতে বিপুলসংখ্যক মানুষের ঢাকা থেকে সারাদেশে ছড়িয়ে যাওয়া এবং ছুটির পর তাদের ঢাকা ফিরে আসার প্রেক্ষাপটে অনেক বেশি মানুষকে করোনা ভাইরাসে   আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে। তারা সংক্রমিত হলে ঈদের ছুটি শেষ হওয়ার এক থেকে দুই সপ্তাহ পর তাদের সেই সংক্রমণ শনাক্ত হবে। সেক্ষেত্রে জুন মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু করে দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত সংক্রমণে থাকতে পারে ঊর্ধ্বগতি।

২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ সংক্রমণ ২০২৯, মৃত্যু ১৫

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাসে আরো ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫৫৯ জন। এই সময়ে রেকর্ড ২ হাজার ২৯ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে।  সারা দেশে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৫০০ জন। সব মিলয়ে এ পর্যন্ত মোট ৮ হাজার ৪২৫ জন সুস্থ হয়ে উঠলেন। নিয়মিত বুলেটিনে যুক্ত হয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বৃহস্পতিবার দেশে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বিবেচনায় সুস্থতার হার ২০ দশমিক ৮৯ শতাংশ, মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ। বুলেটিনে জানানো হয়, গত এক দিনে দেশের ৪৯টি ল্যাবে ৯ হাজার ৩১০টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। নতুন যুক্ত হয়েছে সিরাজগঞ্জের শহিদ এম মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজের ল্যাব। এখন পর্যন্ত রাজধানীতে সবচেয়ে  বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে মিরপুরে (মিরপুর ১, ২, ৬, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৪, পল্লবী ও পীরেরবাগ)-মোট ৬১৪ জন। এরপর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আক্রান্ত হয়েছে মহাখালীতে ৩৫৬ জন।

চিকিত্সক ও অধ্যক্ষের মৃত্যু, আক্রান্ত আরো এক এমপি

এদিকে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. আমেনা খান মারা গেছেন। মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর এলাকার আমেনা ক্লিনিকের গাইনি বিভাগের চিকিত্সক ও মালিক ছিলেন তিনি। এ নিয়ে দেশে চার জন চিকিত্সকের করোনায় মৃত্যু হলো। এছাড়া  করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সানবিমস স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ নিলুফার মঞ্জুর (৭৪) মারা গেছেন। সোমবার রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিত্সাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং দেশের বৃহত্ ওষুধ শিল্প প্রতিষ্ঠান বীকন ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ এবাদুল করিম বুলবুল বুধবার করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি ঢাকার বাসায় হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন।