দিনাজপুরের বিরামপুরে বিষাক্ত স্পিরিট (অ্যালকোহল) পানে ১০ জনের মৃত্যু ঘটেছে। এ ঘটনায় আরো কয়েকজন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। অপরদিকে, রংপুরের পীরগঞ্জে নেশা জাতীয় বিষাক্ত মদ্যপানে সাত ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া বদরগঞ্জে মৃত্যু হয়েছে আরো তিনজন। হাসপাতাল ও বাড়িতে চিকিত্সাধীন রয়েছেন আরো কমপক্ষে ১৫ জন।
বিরামপুর (দিনাজপুর) সংবাদদাতা জানান, বিরামপুরে ঐ ঘটনায় মৃতদের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল দুপুরে দিনাজপুরের পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ ঘটনায় পুলিশ এক হোমিও চিকিত্সককে আটক করেছে।
জানা গেছে, বিরামপুর পৌর এলাকার মাহমুদপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেনের পুত্র আ. মতিন (২২), সুলতান আলীর পুত্র মহসীন আলী (২৭), তোজাম্মেলের পুত্র আজিজুল (৩০), হঠাত্ পাড়া মহল্লার স্বামী শফিকুল (৫৫) ও তার স্ত্রী মঞ্জুুয়ারা (৩৫), মাহমুদপুর গ্রামের আ. আজিজের ছেলে সোহেল রানা (৩০), আবুল হোসেনের ছেলে মনোয়ার হোসেন (৪২), আ. খালেকের পুত্র আব্দুল আলীম (৪০), ইসলামপাড়ার তাপস বাক্সির পুত্র অমৃত্যু বাক্সি (২৪) ও কাজীপাড়া মহল্লার ইসরাফিলের পুত্র আনোয়ার হোসেন (৪২) মঙ্গলবার স্পিরিট (অ্যালকোহল) পান করে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে তারা অসুস্থ বোধ করলে বুধবার সকাল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে একে একে ১০ জনের মৃত্যু ঘটে। স্পিরিট পানকারী আরো ছয় জন দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। মৃত মহসীনের পিতা সুলতান আলী জানান, নিহতরা আগে থেকে মাদকাসক্ত ছিল। পৌর মেয়র লিয়াকত আলী সরকার টুটুল জানান, বিরামপুর শহরের অনেক হোমিও দোকানে অবাধে স্পিরিট বিক্রি হয়। ওসি মনিরুজ্জামান জানান, কী ধরনের নেশা তারা করেছিল তা পরীক্ষার জন্য লাশ দিনাজপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ হোমিও চিকিত্সক আব্দুল মান্নানকে আটক করেছে।
অন্যদিকে, স্টাফ রিপোর্টার (রংপুর) জানান, মদ্যপান করে ঈদ উদ্যাপন করতে গিয়ে পীরগঞ্জের শানেরহাট নামক এলাকায় মর্মান্তিক ঐ ঘটনা ঘটেছে। শানেরহাট ইউপির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মন্টু জানান, মঙ্গলবার সকালে শানেরহাট খোলাহাটি গ্রামের সদ্য জেলফেরত আব্দুর রাজ্জাক (৪৫), পাহাড়পুরের জাইদুল হক (৩৫) ও পার্শ্ববর্তী মিঠাপুকুর উপজেলার বাজিতপুর গ্রামের চন্দন কুমারের (৩০) মৃত্যু হয়। এর আগের দিন সোমবার রাতে রায়তি সাদুল্ল্যাপুরের দুলা মিয়া (৫২) এবং হরিরাম সাহাপুরের লাল মিয়া (৩০), মাদক ব্যবসায়ী নওশা (৫০), সেলিম সরকার (৪৫) মারা গেছেন। এছাড়া ঐ দিন রাত থেকেই অন্তত ১৫ জন অসুস্থ হয়ে পড়েন। মঙ্গলবার সকাল থেকে গতকাল পর্যন্ত ছয় জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এছাড়াও পীরগঞ্জের ধল্লাকান্দির খালেক (৫০), আকবর (৪৫) ও মিলন মাস্টার (৫২), কাজীর পাড়ার খোড়া শাহিন (৪২) ও খোলাহাটির ডিস মতি (৩৬) সহ ১০ জন অসুস্থ অবস্থায় বাড়ি ও হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছে। এলাকাবাসী জানায়, এরা প্রতিনিয়ত শানেরহাট বন্দরে স্পিরিট জাতীয় নেশাদ্রব্য পান করে থাকে। পীরগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরেস চন্দ্র জানান, তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটিত হবে।