জামতলী কমিউনিটি ক্লিনিক বেহাল

আট মাসের বাচ্চা সুমিকে কোলে নিয়ে রোদে দাঁড়িয়ে হাসনা বেগম। ইপিআই কর্মসূচিতে বাচ্চাদের টিকা দেওয়ার কথা। মাসুদা বেগম এসেছেন সর্দিজ্বর নিয়ে। সামিয়া বেগম আমাশয় আর গ্যাস্ট্রিকের চিকিত্সায়। শামসুল হক পায়ের ব্যথা নিয়ে। কিন্তু কমিউনিটি ক্লিনিকের সামনে একহাঁটু জল। ক্লিনিকের সামনে যে এক খণ্ড শুকনো জায়গা সেখানে খুঁটিতে বাঁধা দুটি টাগড়া মহিষ। ধীরে ধীরে আগতের সংখ্যা জনা চল্লিশেকে দাঁড়ায়। ক্লিনিকে প্রবেশ করতে না পেরে সবাই রাস্তার মোড়ে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে। খানিক পর হাঁটুজল ভেঙে ক্লিনিক থেকে বের হলেন এক স্বাস্থ্যকর্মী। ডান হাতে ওষুধের পোটলা। বামহাতে চিকিত্সা সরঞ্জাম। রোগীদের চোখের ইশারায় পিছু নিতে বলেন। ১০০ কদম এগিয়ে স্থানীয় বাজারের গাছতলার এক বেঞ্চিতে তিনি বসেন। সেবা গ্রহীতারাও সেখানে লাইন ধরে সেবা নিতে থাকেন। বুধবার ধনবাড়ী উপজেলার যদুনাথপুর ইউনিয়নের জামতলী কমিউনিটি ক্লিনিকের চিত্র এটি। ক্লিনিকে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মী (পদবি সিএইচসিপি) আখতারুন্নাহার জানান, ২০০০ সালে চালু হওয়া এ ক্লিনিকে কামদেববাড়ী দড়িবেয়ারা, কাওয়ালিয়া, পোড়াবাড়ী, মির্জাপুর, আত্রামবাড়ী, ছাতারকান্দি, পাথালিয়া, বেলুটিয়া, নলহরা ও জামতলী বাজারের সাড়ে ৮ হাজার মানুষ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নেন। দুই বছর আগে প্রভাবশালীরা ক্লিনিকের এক পাশে গরু-মহিষের খামার এবং অপর পাশে পুকুরের পাড় উঁচু করেন। অপর দিকে দোকানপাট থাকায় বৃষ্টির পানি ক্লিনিকের মাঠ উপচে অফিসে ঢোকে। গরু-মহিষের নোংরা মলমূত্র বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে ক্লিনিকের চত্বরে জমে। বিকট গন্ধে ক্লিনিকে তিষ্ঠানো দায়। অফিস কক্ষে এসব নোংরা পানি জমে ওয়েট মেশিনসহ কয়েকটি সরঞ্জাম বিনষ্ট হয়েছে। জল আটকে থাকা অফিস রুম এখন সাপবিচ্ছুর আশ্রয়স্থল। ইউপি সদস্য এবং ক্লিনিক পরিচালনা কমিটির সভাপতি খলিলুর রহমান জানান, করোনায় বহু গার্মেন্টস কর্মী এর মধ্যে বাড়ি এসেছেন। এজন্য ক্লিনিকে রোগীর ভিড় বেড়েছে। কিন্তু সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার দরুন  ক্লিনিকে সেবা দেওয়ার পরিবেশ থাকে না। পশু খামারের মলমূত্র বৃষ্টির পানিতে চুঁইয়ে ক্লিনিকে যাতে না আসে সেজন্য খামার মালিকদের বহুবার অনুরোধ করা হয়েছে। এখন ক্লিনিক মাঠে সর্বক্ষণ গরু-মহিষ বেঁধে রাখা হচ্ছে। সংরক্ষিত মহিলা আসনের ইউপি মেম্বার রাজিয়া বেগম জানান, প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পের শীর্ষে রয়েছে কমিউনিটি ক্লিনিক। এখানে সরকার প্রাথমিক চিকিত্সায় অনেক ওষুধ সরবরাহ করেন। উপজেলা হাসপাতাল দূরে অবস্থিত হওয়ায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর একমাত্র ভরসা এ ক্লিনিক। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগকে লিখিতভাবে অভিযোগ দেওয়া সত্ত্বেও বিভিন্নবিষয়ের সুরাহা হয়নি। যদুনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মীর ফিরোজ আহমেদ এসবের সত্যতা স্বীকার করে জানান, এলজিএসপি প্রকল্পের অনুদান পাওয়া গেলে ক্লিনিকে বাউন্ডারি দেওয়াল নির্মাণ এবং পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহানা সুলতান জানান, ঠিকাদার নিচু জমিতে ভবন নির্মাণ করায় সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সমস্যার সমাধান করা হবে।