নাসরীন মুস্তাফা
আমি আর আমার সহকর্মীরা সেবার এক ট্রেনিংয়ে আমেরিকা গিয়ে সুযোগ বুঝেই সময় বের করে ক্যালিফোর্নিয়ার সাদা পাহাড়ে যাই চার হাজার চার শ চুরাশি বছর বয়সী পাইনগাছ দেখতে, কেননা পৃথিবীর সবচেয়ে বয়সী প্রাণের মুখোমুখি হয়ে প্রশ্ন করতে চাই বেঁচে থাকার আসল রহস্য যা কলকাতা হার্বালের চেয়েও অব্যর্থ বলে প্রমাণিত আর তখন বেয়াড়া গাইড সাদা চামড়ায় হলদে দাঁতের নোংরামি দেখিয়ে গাদা গাদা গাছ দেখিয়ে বলে, সবচেয়ে বেশি বয়সীকে যদি খুঁজে নিতে পার, তবে সে নিজেই মৌনতা ভেঙে উত্তর দেবে প্রশ্নের যা তোমরা জানতে চাও...আহা, আমরা এক এক গাছের দিকে তুলে ধরি তর্জনী যা কিছুতেই জবাব মেলাতে পারে না বলে হাজার বছরের মৌনতা নিয়ে দোমড়ানো শরীরের দামড়া গাছগুলো অট্টহাসিতে ভেঙে পড়ে, যদিও আওয়াজ হয় না একটুও আর আমি গাইডের কাছে অনুনয় করে জেনে নেই নাম সেই বয়সী গাছের।
মেথুসেলাহ্!
প্রতিটি গাছের কাছে গিয়ে নাম ধরে ডেকেছিল সুস্মিতাও, তবুও সাড়া মেলেনি, এরপরও আমরা কেউ বলতে পারিনি এরা মৃত, কেননা গাছের যে জীবন আছে, তা তো প্রতিষ্ঠিত সত্য আজ পৃথিবীর এবং ঠিক সেই কারণেই হিম ঠান্ডা এক দমকা বাতাস আমাদের কাঁপিয়ে দিতেই টের পাই, সে এবং তার মতো সেখানে থাকা সব গাছই ভাস্কর্যের মতো কেবলি বাঁক বদলের ভঙ্গিমায় স্থির বলেই ভ্রম হয়, এরা ভাস্কর্য নয় তো?
মেথুসেলাহ্ পাতাহীন বলেই ভাস্কর্য হতে পেরেছিল, এই উপলব্ধি নিয়ে ফিরে আসি আমরা অতঃপর আমাদের জীবনে।