এ শহর হবে পরিচ্ছন্ন! চলুন

স্নেহা সালাম

 

ঢাকার নানান সমস্যার মধ্যে রয়েছে যানজট আর সবচেয়ে দূষিত শহর। জনসংখ্যাও অন্য যে কোনো শহরের চেয়ে অনেকটাই বেশি। বর্তমানে করোনা ভাইরাস মহামারিতে পুরো বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের নামও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

ঢাকাবাসীর নানা রকম অভিযোগ এই শহর নিয়ে। তবে প্রত্যেকটি সমস্যার সমাধান করা সম্ভব করোনা পরবর্তী সময়ে বাধাধরা কিছু নিয়ম এবং কিছু কিছু অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে। দুই দৃষ্টিকোণ থেকে করোনা পরবর্তী ঢাকা দেখতে পাই আমি।

ঢাকার মানুষ যদি আগে যেমন ছিল ঠিক তেমনি থাকে, তাহলে ঢাকাও থাকবে আগের মতোই অপরিবর্তিত। দূষিত বায়ু, ধুলোর রাজ্য, পৃথিবীর সবচেয়ে দূষিত নগরী, যানজট ইত্যাদি কোনো সমস্যাই সমাধান হবে না। জলাবদ্ধতা, মশার অত্যাচার, ডেঙ্গুজ্বর ইত্যাদিও থেকে যাবে এই শহরের বাসিন্দা হয়ে। গরমের দিনে মাত্রাতিরিক্ত গরম, শীতের দিন কমে আসা—এসবও বাদ যাবে না। রাজধানীর সমস্যার সমাধান নিয়ে বছরের পর বছর নানান গবেষণা চালিয়ে যেতে হবে, যার ফলাফল হয়তো অনেক অনেক বছর পর মিললেও মিলতে পারে; তবে তার আগে অনেক মানুষের প্রাণ যাবে দূষিত বায়ুর জন্য। এটা আমার প্রথম ভাবনা করোনা পরবর্তী ঢাকা নিয়ে।

ঢাকার মানুষের কিছু কিছু অভ্যাস পরিবর্তন যেমন যত্রতত্র আবর্জনা না ফেলা, গণপরিবহন ব্যবহার না করা, বাড়ির ছাদে বাধ্যতামূলক পরিবারভিত্তিক কমপক্ষে একটি করে গাছ লাগানো, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে যেসব কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব তা ঘরে বা অফিসে বসেই সম্পন্ন করা ইত্যাদি। করোনাজনিত ছুটিতে যানবাহন চলাচল কমে যাওয়ার ফলে ঢাকার বায়ু অনেকটা উন্নত হয়েছে, তবে এখনো তা মানসম্পন্ন নয়—কারণ আমাদের এই শহরে যথেষ্ট গাছ নেই। এখন দেশের প্রতিটি মানুষ তাদের সময়ের সদ্ব্যবহার করলে অনেক কিছুই পরিবর্তন হবে। মানুষ ঘরের বাইরে যেতে না পারায় জরুরি মিটিং সম্পন্ন হয়েছে ইন্টারনেটের মাধ্যমে, যেটা করোনা পরবর্তী সময়েও করা গেলে মিটিংয়ে যাতায়াতের সময়টা বাঁচানো যাবে। এর ফলে অনেক কর্মঘণ্টা বেঁচে যাবে শহরবাসীর। অলস সময়ে ছাদবাগান মানুষের কিছুটা সময় কাটাতে সাহায্য করেছে, করোনার পরে যদি ছাদবাগানে সময় দেওয়ার সুযোগ করতে না পারেন; তাহলে অনেক বেকার মানুষ সেই ছাদবাগান পরিচর্যা করে কিছু টাকা রোজগারেও সক্ষম হবে।

তাছাড়া প্রত্যেক অলিগলিতে ডাস্টবিনের ব্যবস্থা করা এবং আবর্জনা সংগ্রহের ব্যবস্থার উন্নতি করলে এই শহর হবে আরো পরিচ্ছন্ন। তাছাড়া নানান অংশে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন না করে ফেলে রাখা হয়েছে। সেসব কাজ শেষ করা গেলে অনেক সমস্যা থেকে মুক্ত হবে এই নগরবাসী।

আরো অনেক অনেক সমস্যার সমাধান মানুষ নিজেই খুঁজে বের করতে পারেন, দরকার শুধু সচেতনতা। আমরা তরুণসমাজ এই শহরে সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে চাই। তাই চলুন সচেতন হই এবং শহরটাকে বাঁচিয়ে তুলি আমাদের সুস্থ ভবিষ্যতের জন্য।

শিক্ষার্থী, ঢাকা সিটি কলেজ