মেয়ের লাশ আনতে বাধা ও পুড়িয়ে দেওয়ার ভুল তথ্য গণমাধ্যমে প্রদানের প্রতিবাদে লালমনিরহাটের বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আবু সাঈদ নেওয়াজ নিশাত ইউনিয়ন পরিষদে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, গত ২২ মে পোশাক শ্রমিক মৌসুমীর মা তার মেয়ের মৃত্যুর খবর দেয় ও লাশ আনতে রংপুরে মেয়ের বাবা গেছে বলে জানায়। আমি ট্রাকচালক ও মালিকের সঙ্গে কথা বলি। তারা জানায় মৌসুমী ট্রাকে পাটগ্রামের বুড়িমারী আসার পথে রাতে মারা গেছে। আমি রংপুর তাজহাট থানাকে জানাতে বলি ও ৯৯৯ এ ফোন করে পাটগ্রাম থানার ওসিকে ঘটনা জানিয়ে সহযোগিতা চাই।
এরই মধ্যে ট্রাকের চালক আজিজুল ও সহকারী চালক বুড়িমারী এলাকায় মৌসুমীর করোনায় মৃত্যুর গুজব ছড়ায়। আমি গুজব ছড়াতে নিষেধ করি এবং ট্রাক মালিক নান্নু মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করে মাইক্রো চালকের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মৌসুমীর বাবাকে লাশ নিয়ে আসতে বলি। মেয়ের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে মেয়ের দাদার কবরের পাশে দাফনের জায়গা নির্ধারণের ব্যবস্থা করি।
পরে জানতে পারি, মৌসুমীর বাবা গোলাম মোস্তফা লাশ না নিয়ে বুড়িমারী এসেছেন। অপরদিকে তাজহাট থানা পুলিশ ময়নাতদন্ত শেষে ওয়ারিশ না থাকায় লাশ কাউকে দিতে পারেননি। পরদিন গোলাম মোস্তফার সঙ্গে লোক দিয়ে লাশ আনতে পাঠাই। কিন্তু দীর্ঘ সময় অপেক্ষা ও যোগাযোগের চেষ্টা করে মৌসুমীর বাবার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। ২৪ মে শুনতে পাই মৌসুমীর লাশ আদিতমারী উপজেলার তিস্তা নদীতে পাওয়া গেছে। এরই মধ্যে গণমাধ্যমে মৌসুমীর বাবা বলেন, আমি নাকি মৌসুমীর লাশ আনতে নিষেধ করি ও আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখাই। আমি এ ধরনের মিথ্যা, ভিত্তিহীন কথা কখনোই বলিনি। এটি আমার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র। আমি সুষ্ঠু তদন্ত করে অপরাধীদের উপযুক্ত বিচার দাবি করছি।