ঢামেকে বিনা চিকিত্সায় কলেজছাত্রের মৃত্যু
জামিউল আহসান সিপু
‘অল্প কিছুক্ষণ আগে কুড়ি বছরের টগবগে তরুণ ভাগিনা সামির আহমেদকে কবর দিয়ে এলাম। তার আগে বড়ো কষ্ট নিয়ে অকালে চিরবিদায় নেওয়া আমার বোনের ছেলের মৃত্যুর ঘটনাটি সবাইকে জানানো প্রয়োজন বোধ করছি।’ বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ের সামনে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত রাজধানীর আইডিয়াল কলেজের কমার্স বিভাগের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী সামির আহমেদের মামা লিটন মাহমুদ তার ফেসবুকের স্ট্যাটাসে নিহত ভাগিনাকে নিয়ে এ কথা লেখেন। তার অভিযোগ, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত সামিরকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) নেওয়ার পর এক জন ডাক্তার কিংবা এক জন নার্স রোগীকে চিকিত্সা দিতে ছুঁয়েও দেখেননি। রক্তাক্ত সামির এ সময় বাঁচার আকুতি জানিয়ে লাথি দিচ্ছিলেন স্ট্রেচারে। এতে বিরক্ত হয়ে এক জন নার্স তার দুই পা স্ট্রেচারের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে দেন। ঘণ্টাখানেক পর ঐ স্ট্রেচারেই মারা যান এই তরুণ।
এ ব্যাপারে রমনা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, সামির কেরানীগঞ্জ কদমতলী এলাকার বাসিন্দা। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকায় আসার জন্য মোটরসাইকেল নিয়ে বাসা থেকে বের হন। বিকাল ৩টার দিকে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারের সামনে দুই মোটরসাইকেলে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। অপর মোটরসাইকেলের চালক ছিল ১৫ বছর বয়সি ইফসুফ। তার বাসা রাজধানীর মালিবাগে। ইফসুফের মোটরসাইকেলে আরোহী ছিল আলিফ (১৭) নামে আরেক বন্ধু। সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলে ইফসুফ নিহত হয়। সামির ও আলিফকে আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যালে নেওয়া হয়।
সামিরের মামার অভিযোগ, অ্যাম্বুলেন্সের চালক স্ট্রেচার ঠেলে ঠেলে তাকে হাসপাতালের নীচতলায় কয়েকটি ওয়ার্ডে যান। কিন্তু চিকিত্সা মেলেনি। ফেসবুকে তিনি আরো লিখেছেন, ‘করোনা পরিস্থিতিতে দেশের চিকিত্সা ব্যবস্থা এতটা ভয়ানক দিকে গেছে তা হয়তো আমার আপনজনের জীবনে এমন দুর্ঘটনা না ঘটলে বুঝতেই পারতাম না। আর ঘটনা এখানেই শেষ নয়! প্রিয়জন হারানোর এই ব্যথার মাঝেও লাশ নিয়ে বাড়ি যেতে মৃত্যুসনদের জন্য দিতে হলো ৫০০ টাকা। দোয়া করি করোনা দূর না হওয়া পর্যন্ত কোনো পরিবারে কেউ যেন অসুস্থ না হয়।’