করোনা ভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এটি এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। এতে ভাইরাসটিতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৬১০ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৭৬৪ জন। এতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা হয়েছে ৪৪ হাজার ৬০৮ জন।
কোভিড-১৯ পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল শনিবার নিয়মিত বুলেটিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা সর্বশেষ এই তথ্য তুলে ধরেন। শুক্রবার এক দিনে রেকর্ড ২ হাজার ৫২৩ রোগী শনাক্তের খবর দিয়েছিলেন তিনি। সেই হিসাবে নতুন রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির গতি কমেছে। আগের দিন মৃত্যু হয়েছিল ২৩ জনের। শনিবার ২৮ জনের মৃত্যু দেশে এক দিনের হিসেবে সর্বাধিক। দেশে এক দিনে ২৮ জন কোভিড-১৯ রোগীর মৃত্যু আগেও একবার ঘটেছিল। সেই তথ্য জানানো হয় গত ২২ মের বুলেটিনে।
বুলেটিনে জানানো হয়, গত এক দিনে দেশের ৫০টি ল্যাবে ৯ হাজার ৯৮৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। আগের দিন ৪৯টি ল্যাবে ১১ হাজার ৩০১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল। অর্থাত্ শনিবার নমুনা পরীক্ষা দেড় হাজারের মতো কম হয়েছে। শনিবার পর্যন্ত দেশে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ২ লাখ ৯৭ হাজার ৫৪টি। গত ২৪ ঘণ্টায় যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ২৫ জন পুরুষ এবং তিন জন নারী। সারাদেশে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৩৬০ জন। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত মোট ৯ হাজার ৩৭৫ জন সুস্থ হয়ে উঠলেন।নাসিমা সুলতানা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার ১৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ। এখন পর্যন্ত শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ২১ দশমিক ২ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩৭ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে দুজনের বয়স ছিল ৮০ বছরের বেশি। এছাড়া ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে তিন জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ছয় জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৯ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে চার জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে চার জন মারা যান। এলাকাভিত্তিক বিশ্লেষণে নাসিমা সুলতানা জানান, মৃতদের মধ্যে ঢাকা মহানগরীর ১০ জন, ঢাকা মহানগরীর বাইরে ঢাকা জেলার বিভিন্ন এলাকার একজন, নারায়ণগঞ্জের একজন, মুন্সিগঞ্জের একজন, গাজীপুরের একজন, ফরিদপুরের দুই জন, নরসিংদীর দুই জন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার দুই জন, সিটি করপোরেশনের বাইরে চট্টগ্রাম জেলায় একজন, কক্সবাজারের দুই জন, কুমিল্লার দুই জন, রংপুরের একজন, পঞ্চগড়ের একজন ও সিলেটের একজন।
গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে আরো ৪৬৯ জনকে এবং বর্তমানে আইসোলেশনে রয়েছেন ৫ হাজার ৫২৯ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৮০ জন এবং এ পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন ২ হাজার ৮৯০ জন। সারাদেশে আইসোলেশন শয্যা আছে ১৩ হাজার ২৮৪টি। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকায় ৭ হাজার ২৫০টি এবং ঢাকার বাইরে আছে ৬ হাজার ৩০০টি। সারাদেশে আইসিইউ শয্যা আছে ৩৯৯টি এবং ডায়ালাইসিস ইউনিট আছে ১১২টি। গত ২৪ ঘণ্টায় হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে ২ হাজার ২২০ জনকে। এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে ২ লাখ ৮২ হাজার ২২৫ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড় পেয়েছেন ২ হাজার ২১৯ জন। এ পর্যন্ত মোট ছাড় পেয়েছেন ২ লাখ ২১ হাজার ৯৪৯ জন। বর্তমানে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৬০ হাজার ২৭৬ জন।