ময়মনসিংহের গৌরীপুর ও পাবনার চাটমোহর উপজেলায় করোনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নগদ উপহার কর্মসূচির জন্য প্রণীত তালিকায় নানা অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা জানান, ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার মাওহা ইউনিয়নে করোনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নগদ উপহার তালিকায় দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ তালিকায় ধনাঢ্য ব্যক্তি যার বিশাল সম্পদ ও পাকা বাড়ি আছে এমন ব্যক্তির নাম রয়েছে। রয়েছে দাদি, মা-বাবা-নাতি এবং তিন পুত্রসহ বাবা—এমন একই পরিবারের একাধিক সদস্যের নাম। প্রতিবন্ধী ভাতা প্রাপ্ত, ভিজিডি ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে নাম রয়েছে এমন ব্যক্তিরও এ তালিকায় নাম দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ওয়ার্ডভিত্তিক বিভাজনে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগপত্র দায়ের করেছেন ভুটিয়ারকোনা আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মোহাম্মদ।
মাওহা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. কবীর উদ্দিন জানান, প্রধানমন্ত্রী রিকশাচালক, ভ্যানচালক, দিনমজুর, নির্মাণশ্রমিক, কৃষিশ্রমিক, দোকান-কর্মচারীসহ নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এ উপহার দিয়েছেন। কিন্তু এ তালিকায় লাখপতি আর শত শত মণ ধান পায় এমন কৃষকের নামও রয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মাওহা ইউনিয়নে করোনা ভাইরাসের কারণে কর্মহীন ও দুস্থ ৫৩০ জন আড়াই হাজার টাকা করে প্রধানমন্ত্রীর উপহার পাবেন। সে অনুযায়ী ৯টি ওয়ার্ডের প্রত্যেক ওয়ার্ডে প্রায় ৫৯ জন তালিকাভুক্ত হওয়ার কথা। কিন্তু ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ২৩০ জনকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেঁজুতি ধর বলেন, কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি হলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি জানান, পাবনার চাটমোহর উপজেলায় করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নগদ উপহার কর্মসূচির তালিকা প্রণয়নে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ পাওয়া গেছে সচ্ছল ব্যক্তিদের নাম তালিকাভুক্ত করার।
উপজেলার ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার মোতাহার হোসেন সুবিধাভোগীদের নামের তালিকা করার জন্য প্রত্যেকের কাছ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত উেকাচ গ্রহণ করেছেন
—এমন লিখিত অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে দায়ের করেছেন ঐ ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ আলী। একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারী খলিলুর রহমান এ অভিযোগের তদন্ত করেছেন।
অপরদিকে চাটমোহর পৌরসভার প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডেই স্বজনপ্রীতির অভিযোগ। কাউন্সিলরদের কেউ কেউ নিজের নামের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী, ভাই, আত্মীয়-স্বজন ও ধনাঢ্য সচ্ছল ব্যক্তিদের নাম তালিকাভুক্ত করেছেন। ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি করেছেন অনেকটা প্রকাশ্যেই। অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ অনিয়মের তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পিআইকে নির্দেশ দেন। চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরকার মোহাম্মদ রায়হান জানান, মেয়র, চেয়ারম্যান, কাউন্সিলর ও মেম্বাররাই এই তালিকা করেছেন। কোনো অনিয়ম হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।