শূন্য আসন নিয়ে জটিলতা

সমাধান চাইতে রাষ্ট্রপতির কাছে যাবে ইসি

করোনা ভাইরাসের কারণে সংবিধানে প্রদত্ত ক্ষমতা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জাতীয় সংসদের শূন্য আসনের নির্বাচন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে যশোর-৬ এবং বগুড়া-১ আসনে নির্বাচন আয়োজনে সংবিধানের ৯০ দিন শেষে এবার সিইসির হাতে থাকা পরবর্তী ৯০ দিনও শেষের পথে। এই পরিস্থিতিতে জাতীয় সংসদের শূন্য ঘোষিত আসনের মধ্যে যেগুলোর নির্বাচনের সময়সীমা শেষ হয়ে যাবে সেগুলোর বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে পরামর্শ নিতে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাত্ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বলেন, সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের কোনো আসন শূন্য ঘোষণার ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। দৈবদুর্বিপাকে এই সময়ের মধ্যে নির্বাচন করা সম্ভব না হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিজস্ব ক্ষমতাবলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে ভোট করতে পারেন। জাতীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে সিইসিকে সংবিধানের এ ক্ষমতা দিয়েছে। ঐ সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব না হলে নির্বাচন কমিশন মহামান্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গে পরামর্শ করে সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন করে পরামর্শ চাইতে পারে। এই সুযোগ রয়েছে।

মেয়াদোত্তীর্ণ স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় নির্ধারণ করে  স্থানীয় সরকার বিভাগ। তারা যেভাবে বলবে নির্বাচন কমিশন সেইভাবে নির্বাচন করবে। আপত্কালীন কোনো কারণে সময়মতো নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হলে ঐ নির্বাচন স্থগিত রাখতে পারে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

বর্তমানে শূন্য অবস্থায় পড়ে আছে দেশের চারটি সংসদীয় আসন। পেরিয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের দিনক্ষণও। জুলাইয়ের মধ্যে করতে হবে নির্বাচন। সঙ্গে আছে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন সংস্থার নির্বাচন। জাতীয় সংসদের শূন্য আসনগুলো হলো—বগুড়া-১, যশোর-৬, পাবনা-৪ ও ঢাকা-৫। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন, এর সঙ্গে বগুড়া-১ ও যশোর-৬ সংসদীয় আসনের নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল গত ২৯ মার্চ। করোনার মধ্যে নির্বাচনের ঘোষণা থাকায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে তা স্থগিত করতে বাধ্য হয় সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি।

পাবনা-৪ এবং ঢাকা-৫ আসন দুইটি শূন্য হলেও তপশিল ঘোষণা করেনি ইসি। পাবনা-৪ আসনের (আটঘরিয়া-ঈশ্বরদী) সংসদ সদস্য সাবেক ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যান গত ২ এপ্রিল। ঢাকা-৫ আসনের (ডেমরা-দনিয়া-মাতুয়াইল) সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুর রহমান মোল্লা হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যান গত ৬ মে। তারা মারা যাওয়ায় আসনগুলো শূন্য হয়। পাবনা-৪ আসনটির জন্য জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ এবং ঢাকা-৫ আসনটির জন্য আগস্ট মাসের প্রথমার্ধ পর্যন্ত সময় আছে।

ইসির সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান করোনা ভাইরাসের কারণে নির্বাচন আয়োজন কোনোভাবেই সম্ভব নয়। দুইটি আসনের নির্বাচনে কমিশনের হাতে মাত্র ৪৫ দিনের মতো সময় আছে। জুনের মধ্যে করোনা ভাইরাস ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ হতে হবে কমিশনের।