এক সময় পৃথিবীতে রাজত্ব করত ডাইনোসর। প্রায় সাড়ে ৬ কোটি বছর আগে গ্রহাণুর আঘাতে ডাইনোসর ধ্বংস হয়েছিল। মূলত পৃথিবী থেকে ডাইনোসর বিলুপ্ত হওয়ার পরই নতুন করে জীবনের সৃষ্টি হয়েছে। পৃথিবীতে প্রাণের জন্মের জন্য এতোদিন শুধু কীভাবে ডাইনোসর যুগের অবসান হয়েছে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু এবার বিজ্ঞানীরা ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছেন—নতুন করে প্রাণ সৃষ্টির সেই পরিবেশ কী করে সৃষ্টি হয়েছিল। ইউনিভার্সিটি স্পেস রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশন, ইমপেরিয়াল কলেজ লন্ডন, এডিনবার্গ এবং গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলেছেন, গ্রহাণু বিস্ফোরণের পর সৃষ্টি হওয়া চিকসুলুব খাদের নিচে থাকা হাইড্রোথার্মাল ব্যবস্থাই প্রাণের জন্ম দিয়েছিল। ডাইনোসর বিলুপ্তি সম্পর্কে বলা হয়ে থাকে—আজ থেকে ৬৬ মিলিয়ন বছর (৬ কোটি ৬০ লাখ) আগে পৃথিবীতে গ্রহাণুর আঘাতে ডাইনোসর যুগের অবসান হয়েছে। ঐ সময়ে মেক্সিকোর চিকসুলুবে তৈরি হয়েছিল ১৮০ কিলোমিটার আয়তনের খাদ ‘চিকসুলুব খাদ’। মাত্র ১০ কিলোমিটার আয়তনের গ্রহাণুটির আঘাতেই এতো বড়ো খাদের সৃষ্টি হয়েছিল। গ্রহাণুর শক্তিশালী আঘাতে পৃথিবী উপর্যুপরি অগ্নিকাণ্ড, আগ্নেয়গিরি, ভূমিকম্প ও সুনামির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে হারিয়ে গেছে ডাইনোসরসহ তখনকার পৃথিবীর বেশির ভাগ উদ্ভিদ ও প্রাণী।
গবেষক দলের মতে, চিকসুলুবেই লুকিয়ে রয়েছে পৃথিবীতে জীবন সৃষ্টির রহস্য। তারা চিকসুলুবের খাদের নিচের বিশাল শিলা এবং ইউকাতান উপদ্বীপ পর্যন্ত বিস্তৃত উষ্ণ পানির উত্স নিয়ে গবেষণা করে এমন দাবি করছেন। তাদের মতে—উষ্ণ পানির উত্স বা এই ধরনের হাইড্রোথার্মাল ব্যবস্থা মাইক্রো-অর্গানিজমের জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে দিয়েছিল। অন্য কথায়—সেই সময়ের ঐ বিশাল গ্রহাণুর আঘাতই পরবর্তীতে এমন পরিবেশ সৃষ্টির জন্য প্রাথমিক ভূমিকা রেখেছিল। গবেষক দলের প্রধান ড. ডেভিড ক্রিঙয়ের মতে, এই পদ্ধতি মঙ্গল এবং অন্যান্য গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব খোঁজার কাজেও কাজে লাগবে।
ড. ডেভিড ক্রিঙয়ের মতে, চিকসুলুব খাদের নিচের এ উষ্ণ পানির হাইড্রোথার্মাল নেটওয়ার্ক প্রায় ১০ লক্ষ বছর ধরে স্থায়ী থেকে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক এবং প্রোটিন তৈরির কাজ করেছে। মূলত এসব উপাদানই সেই সময়ে জীবের কোষ তৈরির কাজে সহায়তা করেছিল।
অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী নাসার এই বিজ্ঞানী বলেন, চিকসুলুব খাদের ২ হাজার ৩০০ ফুট নিচে থাকা এ হাইড্রোথার্মাল নেটওয়ার্ক যুক্তরাষ্ট্রের ইয়োলোস্টেন ন্যাশনাল পার্কের থেকে ৯ গুণ বড়ো। তার মতে, প্রায় ১ লাখ বছর ধরেই হয়তো এই হাইড্রোথার্মাল সিস্টেম পৃথিবীর বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ভূ-ত্বকের রাসায়নিক এবং খনিজ গঠন পরিবর্তন করে চলেছে। —ডেইলি মেইল