কর্ণফুলী পেপার মিলে উত্পাদন বন্ধ

কাঁচামাল এবং সরকারি অর্ডার না থাকায় গত ২৪ মে থেকে চন্দ্রঘোনা কর্ণফুলি পেপার মিলে উত্পাদন বন্ধ রয়েছে। এখানে কর্মরত মাষ্টার রোলের অসহায় শ্রমিক-কর্মচারীদের উত্পাদন শুরু না হওয়া পর্যন্ত কাজে যোগদান না করতে কর্তৃপক্ষ আদেশ দিয়েছে। গত ২৩ মে  কেপিএময়ের ব্যবস্থাপক (প্রশাসন)  মো. মাজহারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই আদেশ দেওয়া হয়। এতে অসহায় শ্রমিকরা হঠাত্ কাজ হারিয়ে মানবতার জীবন-যাপন করছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কেপিএম শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক ও সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বাচ্চু এই প্রতিনিধিকে জানান, কাঁচামাল সংকট এবং কাগজ বিক্রি করতে না পারায় কেপিএময়ের উত্পাদন বন্ধ আছে। কেপিএময়ের ব্যবস্থাপক (উত্পাদন) গোলাম সরোয়ার জানান, বর্তমানে কিছু কাঁচামাল সংকট আছে, তাছাড়া কেপিএম হতে সরকারি প্রতিষ্ঠান পাঠ্যপুস্তক বোর্ড-এনসিটিবি কাগজ না কেনায় গত ২৪  মে  থেকে কারখানায়  উত্পাদন হচ্ছে না। তিনি জানান, কেপিএম হতে এনসিটিবির ১০০০ মেট্রিকটন কাগজ  কেনার কথা ছিল। এই প্রতিষ্ঠানটি কাগজ কিনলে এই সংকট থাকবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

কেপিএম ম্যানেজমেন্ট সূত্রে জানা যায়, এই মিলটি বর্তমানে  আমদানিকৃত পাল্প রিসাইকেল পেপার হতে কাগজ উত্পাদন করে থাকে। চলতি অর্থবছরের ৯ মে পর্যন্ত বিসিআইসির এই প্রতিষ্ঠানটি সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৭৮৫ মেট্রিকটন পর্যন্ত কাগজ উত্পাদন করেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক উত্পাদন ক্ষমতা ৩০ হাজার মেট্রিকটন হলেও বর্তমানে বার্ষিক ৫ থেকে ৬ হাজার মেট্রিকটন কাগজ উত্পাদনের ফলে এটি একটি লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত   হয়েছে বলে শ্রমিকরা জানান।

কয়েকজন শ্রমিক ও কর্মকর্তা জানান, যদি দৈনিক ৪৫ থেকে ৫০ মেট্রিকটন কাগজ উত্পাদন হয় তাহলে এই মিলটিকে আর  লোকসান গুনতে হবে না। তারা আরো জানান, বর্তমানে যে যন্ত্রপাতি আছে তা দিয়ে দৈনিক ৭০ থেকে ৮০ মেট্রিকটন কাগজ  উত্পাদন করা সম্ভব। তবে অনেক ক্ষেত্রে নিম্নমানের কাগজ উত্পাদনের ফলে এনসিটিবিসহ সরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান এই মিল থেকে কাগজ কিনতে আগ্রহী হচ্ছে না বলে তারা অভিযোগ করেন। এ বিষয়ে সিবিএ নেতৃবৃন্দের বক্তব্য জানতে চাইলে তারা বিষয়গুলোর সত্যতা স্বীকার করেছেন।

এদিকে কেপিএম আবাসিক এলাকায় বসবাসরত স্থায়ী শ্রমিক-কর্মচারীরা অভিযোগ করে জানান, মিলের উত্পাদন বন্ধ বা চালু রাখা সেটা সম্পূর্ণ কর্তৃপক্ষের বিষয়, কিন্তু আবাসিক এলাকায় তারা বিদ্যুত্ এবং পানীয়জলের সংকটে ভুগছেন। তারা জানান, রাতে কয়েকঘণ্টা এবং সকালে কয়েকঘণ্টা বিদ্যুত্ থাকে। এছাড়া দিনে একবার যে পানি সরবরাহ করা হয়, সেটা বিশুদ্ধ না করেই সাপ্লাই করা হচ্ছে। ফলে এই করোনাকালে এই পানি ব্যবহার তাদের জন্য নিরাপদ নয়।