আশরাফুল আলম
হালকা মিষ্টি স্বাদের রসালো ফল। আশ্চর্য ওষধিগুণ সম্পন্ন। বাংলাদেশ, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, সামোয়া, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড প্রভৃতি দেশে জন্মে। গ্রীষ্মকাল হলো এই ফলের ভরা মৌসুম। গাছের সরু শাখায় ঝুলে থাকা জামরুলগুচ্ছের সৌন্দর্য সহজেই দৃষ্টি কাড়ে। গোলাপজাম, আমরোজ, সাদাজাম নামেও পরিচিত। বিভিন্ন রঙের হয়ে থাকে। তবে সাদা, হালকা সবুজ ও লাল-গোলাপি রঙেরই বেশি দেখা যায়। এই ফল দেখতে যতটা সুন্দর, শরীরের জন্যও ততটাই উপকারী। যে কোনো বড়ো ফলের সমানই পুষ্টি ধারণ করে। রোদে তপ্ত হলে জামরুল বেশি মিষ্টি হয়। পাকা লাল জামরুল খুব মিষ্টি এবং স্বাদ অতুলনীয়।
জামরুলে প্রচুর ভিটামিন এ ও ভিটামিন সি ছাড়াও রয়েছে ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, আয়রণ, সালফার, ফসফরাস, খাদ্যআঁশ, ক্যারোটিন, কার্বোহাইড্রেড, ক্লোরিন, ম্যাগনেসিয়াম এবং সোডিয়ামসহ বিভিন্ন খনিজ উপাদান। মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে, হূদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে বিশেষ উপকারী। জামরুলের নিয়াসিন উপাদান ক্ষতিকর এলডিএল কোলেস্টেরল কমিয়ে উপকারী এইচডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায়। মস্তিষ্ক ও লিভারের যত্নে টনিক হিসেবে কাজ করে। জামরুলের আঁশ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে এবং শরীরের দূষিত পদার্থ বর্জন ও মেদ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। এর ভিটামিন সি এবং ফাইবার হজমশক্তি বাড়ায়। ভিটামিন এ সমৃদ্ধ হওয়ায় দৃষ্টিশক্তি অক্ষুণ্ন রাখে। জামরুল ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। ভেষজ চিকিত্সায় জামরুলের পাতা, ফুল, কাণ্ড ব্যবহার হয়। শরীরের পানিশূন্যতা, দাঁতের সমস্যা সমাধানে ও ত্বক সুরক্ষায় জামরুল খুবই উপকারী। এর বিচি ডায়রিয়া প্রতিরোধে ওষুধের মতো কাজ করে। বাত নিরাময় এবং চোখের নিচের কালো দাগ দূর করতে জামরুল অত্যন্ত কার্যকর।
গ্রীষ্মকালে এই ফলের কদর অনেক বেশি। জামরুলের নিজস্ব একটি মিষ্টি গন্ধ রয়েছে। গ্রীষ্মের প্রথম থেকে ফল ধরতে শুরু করে—বছরে দু-তিন দফায় ধরে। জামরুলগাছ চিরসবুজ ও মাঝারি আকারের হয়ে থাকে। মার্চ-এপ্রিল মাসে ফুল আসে এবং মে-জুনে ফল পাকে। যে বছর প্রচণ্ড রোদ পড়ে, সে বছর জামরুল হয় মিষ্টি। আর ছায়ার জামরুল পানসে। কিন্তু খেতে সুস্বাদু।