পাঁচ পাত্রীর সঙ্গে প্রতারণা করে ৭৫ লাখ টাকা আদায়

ভুয়া ম্যাজিস্ট্রেট গ্রেফতার

ইত্তেফাক রিপোর্ট

ঘটকের কাছ থেকে নিতেন পাত্রীর ছবি ও বায়োডাটা। এরপর পাত্রীর কাছে ফোন করে নিজেকে কখনো ম্যাজিস্ট্রেট বা সহকারী সচিব পরিচয় দিতেন। বলতেন, তিনি সুন্দর মনের একজন পাত্রীকে খুঁজছেন। এরপর পাত্রীর মায়ের সঙ্গে গড়ে তোলেন সখ্যতা। বিয়ের আগেই হবু শাশুড়ি বলে সম্বোধন করেন। এক পর্যায়ে বিদেশে পিএইচডি করার কথা বলেন। হবু জামাই পিএইচডি করবে এই ভেবে ১০/১৫ লাখ টাকা তুলে দেন পাত্রীর মা। টাকা পেয়েই তিনি আত্মগোপন করেন। সন্ধান করেন আরেক পাত্রীর। আবার বিয়ে বিয়ে খেলা করে নতুন প্রতারণার ফাঁদ তৈরি করেন। এভাবে পাঁচ পাত্রীর সঙ্গে প্রতারণা করে ৭৫ লাখ টাকা আদায় করেছেন এক ভুয়া ম্যাজিস্ট্রেট। রবিবার মধ্যরাতে রাজধানীর উত্তরা থেকে ভুয়া ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় প্রদানকারী এই প্রতারককে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেফতারকৃতের নাম গোলাম মোস্তফা (৩৮)। সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারুক হোসেন বলেন, প্রতারক গোলাম মোস্তফা নিজেকে কখনো ২৪তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা, কখনো ম্যাজিস্ট্রেট আবার কখনো সচিবালয়ে কর্মরত বলে পরিচয় দিতেন। তিনি ঢাকা শহরের কিছু অসাধু ঘটকের কাছ থেকে অবিবাহিত মেয়েদের বায়োডাটা টাকার বিনিময়ে সংগ্রহ করে তাদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ শুরু করেন। পরে পরিবারের সদস্য বিশেষত পাত্রীর মায়ের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলে বিশ্বস্ততা অর্জন করেন। এরপর বিভিন্ন সময়ে পিএইচডি করতে বিদেশ যাওয়া, দুদককে ঘুষ দেওয়া, বদলি বাতিলকরণ করাসহ নানা অজুহাতে বিবাহপ্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা ধার নিতেন। পরবর্তী সময়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিতেন। তার মূল টার্গেট ছিল বিত্তবান পরিবারের অবিবাহিত ও চাকরিজীবী মেয়ে।

সিআইডি জানায়, গত ১১ ফেব্রুয়ারি প্রতারণার শিকার হয়ে বেসরকারি ব্যাংকের এক নারী কর্মকর্তা বাদী হয়ে ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট থানায় গোলাম মোস্তফার নামে একটি মামলা দায়ের করেন। ঐ মামলায় সিআইডির সিরিয়াস ক্রাইম টিমের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজীব ফরহানের তত্ত্বাবধানে রবিবার মধ্যরাতে উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে গোলাম মোস্তফাকে গ্রেফতার করে সিআইডির একটি দল।