যুক্তরাষ্ট্রে সহিংসতা লুটপাট অব্যাহত

পুলিশ হেফাজতে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর ন্যায়বিচার দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। সহিংস বিক্ষোভ ঠেকাতে এখন পর্যন্ত ৪০টি শহরে কারফিউ জারি করা হয়েছে। তার পরও রবিবার বেশির ভাগ শহরে কারফিউ ভেঙে ষষ্ঠ দিনের মতো প্রতিবাদ-বিক্ষোভ হয়। নিউ ইয়র্ক, শিকাগো, ফিলাডেলফিয়া ও লস অ্যাঞ্জেলেসে দাঙ্গা পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং দোকানে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ার শেল ও মরিচের গুঁড়ো নিক্ষেপ করে। সহিংসতায় তিন জন নিহত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত ৪ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ থেকে আটক করা হয়েছে নিউ ইয়র্কের মেয়রের মেয়েকে। খবর :সিএনএন, বিবিসি ও আলজাজিরা।

প্রতিবাদ-বিক্ষোভের কারণে যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে অস্থিরতা বেড়ে চলেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখন পর্যন্ত ১৫ অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল গার্ডের প্রায় ৫ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। রবিবার রাতেও হোয়াইট হাউজের বাইরে দাঙ্গা পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়। সেখানে একটি গির্জাসহ বিভিন্ন সম্পদের ক্ষতিসাধন করেছে বিক্ষোভকারীরা। এই সহিংস বিক্ষোভকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাস বলে আখ্যায়িত করেছেন। এজন্য তিনি বামপন্থী গ্রুপদের দোষারোপ করেন। তবে অনেক রিপাবলিকান নেতা ট্রাম্পের এই মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, এ ধরনের বক্তব্য অস্থিতিশীলতা বাড়াতে পারে। এদিকে খবরে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার রাতে হোয়াইট হাউজের বাইরে যখন বিক্ষোভ হচ্ছিল, তখন নিরাপত্তার স্বার্থে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউজের আন্ডারগ্রাউন্ডের বাংকারে নিয়ে যান গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার পরিবার প্রায় এক ঘণ্টা বাংকারে অবস্থান করেন।

 মানুষ বড়ো ধরনের প্রতিবাদে অংশ নিয়েছে ডেনভার, আটলান্টা, বোস্টন, মিয়ামি ও ওকলাহোমা শহরে। বিক্ষোভকারীদের ওপর শক্তি প্রয়োগের দায়ে আটলান্টায় দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে   বরখাস্ত করা হয়েছে। সহিংসতার সময় গুলিতে তিন জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এর মধ্যে কেন্টাকির লুইসভিলে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় গুলিতে এক জন নিহত হয়েছেন। এ বিষয়ে ঘটনা তদন্ত করা হবে বলে জানানো হয়েছে। আইওয়া অঙ্গরাজ্যে সহিংসতায় দুই জন নিহত ও এক জন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন।

জর্জ ফ্লয়েডের ভাই টেরেনস সহিংসতা পরিহার করে শান্তিপূর্ণ আচরণের আহ্বান জানিয়েছেন।

গত ২৫ মে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়েপোলিস শহরে পুলিশ হেফাজতে মারা যান কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চার পুলিশ সদস্যকে আগেই বরখাস্ত করা হয়েছে।

এক পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক চাউভিনকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে থার্ড ডিগ্রি হত্যা মামলাও দায়ের হয়েছে। তবে বিক্ষোভকারীদের দাবি, জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত চার পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই হত্যা মামলা দায়ের করতে হবে। এছাড়া আটক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা যথেষ্ট নয়। তবে মিনিয়েপোলিসের পুলিশপ্রধান বলেছেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত চার পুলিশ কর্মকর্তা সমানভাবে দায়ী।

বিবিসির এক বিশ্লেষক বলেন, ১৯৬৮ সালে মার্টিন লুথার কিং নিহত হওয়ার পর বর্ণবাদের কারণে এবারই সবচেয়ে বড়ো অস্থিতিশীলতা দেখছে যুক্তরাষ্ট্র।

৭৫টির বেশি শহরে এখন পর্যন্ত বিক্ষোভ হয়েছে। এদিকে জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর বিচার দাবিতে বিশ্বের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। বিক্ষোভ হয়েছে লন্ডন, বার্লিনসহ অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিভিন্ন শহরে।