রাজনৈতিক দলের সব স্তরের কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব পূরণের শর্ত আর থাকছে না। সংগঠনের সব পর্যায়ে ২০২০ সালের মধ্যে ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব নিশ্চিত করার শর্তে নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে নিবন্ধন পেয়েছিল রাজনৈতিক দলগুলো। কিন্তু কোনো রাজনৈতিক দলই এই শর্ত পূরণ করতে পারেনি। এই পরিস্থিতিতে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৯০ অনুচ্ছেদটি তুলে দিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক দল নিবন্ধন আইন প্রণয়ন করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন এই প্রস্তাবিত খসড়া আইনে চলতি বছরের মধ্যে ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্বের শর্ত তুলে দেওয়া হচ্ছে। নতুন এই আইনে যুক্ত হতে পারে আরো শর্তাবলী। কমিশন সূত্রে এতথ্য জানা গেছে।
ইসির সিনিয়র সচিব মো: আলমগীর ইত্তেফাককে বলেন, কমিশনের সভায় বিষয়টি এজেন্ডাভুক্ত হলেও কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন সংক্রান্ত আলাদা আইণ প্রণয়নের কাজ চলছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে যে বিধান বা শর্তগুলো ছিলো সেগুলো নতুন আইনে চলে আসবে। আগামীতে পর্যায়ক্রমে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন। সরাসরি বা চিঠি অথবা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। ২০০৮ সালে নিবন্ধনের সময় রাজনৈতিক দলগুলোতে সর্বোচ্চ নারী নেতৃত্বের হার ছিল শতকরা ১০ ভাগ। আইনে শর্ত পূরণের বাধ্যবাধকতা থাকলেও গত ১২ বছরে অগ্রগতি আশানুরূপ নয়। গত ১২ বছরে রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে নারী নেতৃত্ব বাড়ার হার ১০ ভাগেরও নিচে। ফলে ইসির বেঁধে দেওয়া বাকি সময়ের মধ্যে আরও ১২ থেকে ১৫ শতাংশ নারী নেতৃত্ব নিশ্চিত করা অসম্ভব ব্যাপার।
ইসি সূত্র জানিয়েছে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কমিটিতে ২৬ শতাংশ নারী সদস্য রয়েছেন। বিএনপির সব পর্যায়ের কমিটিতে ১৫ শতাংশ নারী সদস্য রয়েছেন। সেই তুলনায় এগিয়ে থাকা জাতীয় পার্টি-জাপার সব স্তরের কমিটিতে ২০ শতাংশ নারী নেতৃত্ব রেখেছে বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর কমিটিতে নারী নেতৃত্বের হার আরও অনেক কম। যদিও নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একমাত্র গণফ্রন্ট দাবি করেছে, দলটির সব কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য রয়েছেন। তবে ইসি সেটি এখনো যাচাই করে দেখেনি। অন্যান্য বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল চলতি বছরের মধ্যে ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব শর্ত পূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আইনের খসড়া প্রণয়নের সাথে সম্পৃক্ত একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, গত ১১ বছরের মধ্যে যেখানে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলো ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব শর্ত পূরণ করতে পারেনি সেখানে চলতি বছরের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন প্রায় অসম্ভব। এই বাস্তবতায় আইনের ধারাটি বহাল থাকলে শর্ত ভঙ্গের জন্য বেশিরভাগ দলের নিবন্ধন বাতিল করতে হবে নতুবা শর্ত শিথিল করতে হবে। এদিকে, অত্যন্ত গোপনীয়তায় রাজনৈতিক দল নিবন্ধন আইন প্রণয়ন করছে ইসি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার সভাপতিত্ব সোমবার বিকালে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় খসড়া আইনটি উপস্থাপন করা হলেও কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ৬৩তম কমিশন সভার এজেন্ডায় ক. গণপ্রতিনিধিত্ব আইন, ২০২০ এর খসড়া বিল অনুমোদম; খ. রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন আইন প্রণয়ন; গ. নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রণীত আইন বাংলা প্রণয়ন; ঘ. জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের স্থগিত নির্বাচনের উপর আলোচনার ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ; ঙ. জাতীয় সংসদের সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ আইন আইন ২০২০ এবং চ. বিবিধ বিষয় রাখা হয়।
সিইসির সভাপতিত্বে চার কমিশনারের উপস্থিতিতে নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় বেশকিছু এজেন্ডাভুক্ত বিষয়ে আলোচনা হলেও কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। কর্মকর্তাদের আলোচনার কার্যপত্র দেওয়া হয়নি। গত রবিবার বিকালে এক কর্মকর্তা মারফত বাসায় যাওয়ার প্রাক্বালে চার নির্বাচন কমিশনারকে কার্যপত্রের ফোল্ডার পাঠানো হয়। কমিশন বা কর্মকর্তারা কেউই প্রস্তাবিত রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন আইন প্রণয়ন সম্পর্কে বিস্তারিত কিছুই বলতে পারেননি। ইসির বা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ঠরা বলছেন, রাজনৈতিক দলের জন্য নতুন প্রনীত আইনে বেশকিছু জটিল এবং রাজনৈতিক মহলে আলোচিত শর্ত যুক্ত করা হতে পারে।