প্রাকৃতিক দুর্যোগ সকল কিছু ছুঁয়ে যায়। বিশেষ করে ঝড়ঝাপটা, অতি বৃষ্টিতে পাখিরাও খুব বিপদে থাকে। বনবাদাড় আর বাড়ির আশপাশের পাখিরা আহত হলে তাদেরও চিকিত্সার প্রয়োজন হয়। অনেকে মানবিকতার হাত বাড়ান, আহত পাখির সেবাযত্নে এগিয়ে আসেন। আবার অনেকে এড়িয়ে চলে যান, দায়দায়িত্ব নিতে আগ্রহী হন না। পাখি পরিবেশের জন্য খুবই উপকারী। তাদের প্রতি আমাদের মানবিক হতে হবে। ঝড়ের কবলে অনেক পাখির বাসা ভেঙে যায়, সেখানে ছানাপোনাও থাকে।
ঝড়োরাতে কী নিদারুণ ভীতিকর পরিস্থিতিতে ছানাসহ মা পাখির রাত কাটে তা ভাবতেই কষ্ট হয়। কখনো কখনো ঝড়ে বাসা ভেঙে যায়, খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকে পাখির ছানা, পাখির বাবা-মা খুব কষ্টের স্বরে ডাকাডাকি করে। সম্প্রতি ঝড়ে আমাদের বাড়ির বাঁশবাগানে এমন এক বিপদগ্রস্ত পাখির দেখা পাই। কালক্ষেপণ না করে খড়কুটো দিয়ে কোনোরকম একটি বাসা তৈরি করে পাখির ছানাটিকে সেখানে রাখি।
ছানাটির বাবা-মা প্রথমে শত্রু মনে করলেও ঘণ্টাখানেক পর তারা বাসাটিতে যাতায়াত করে বাচ্চাটিকে ওম দেয়। খাবার খাওয়ায় অল্প দিনেই ঝরঝরে হয়ে ওঠে। পাখির ছানাটি উড়াল দিতে শেখে। আহা কী নান্দনিক দৃশ্য। একদিন ভোরে তারা চলে যায়। এই চলে যাওয়ার বিষয়টি সাময়িক কষ্ট দিয়েছে, তবে আনন্দিত হয়েছি—কামনা করেছি, তারা নিরাপদে থাকুক। পাখির বিচরণ অবারিত হোক, পাখির প্রতি প্রসারিত হোক মানবিক হাত।
কামরুল হাসান কামু
শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ