নীলফামারীতে প্রধানমন্ত্রীর প্রণোদনার তালিকায় সচ্ছল ব্যক্তিদের নাম

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রণোদনার আড়াই হাজার টাকার তালিকায় সচ্ছল ও সম্পদশালীদের নাম নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। এলাকার ৬৮৮ জন স্বাক্ষরিত ঐ অভিযোগপত্র সূত্রে জানা গেছে, মাগুড়া ইউনিয়নে প্রণোদনার আড়াই হাজার টাকার সুবিধাভোগীর তালিকায় পাকা বাড়ি, ১৫ থেকে ২০ বিঘা কৃষি জমির মালিক, সচ্ছল ব্যবসায়ীর নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান মাহামুদুল হোসেন শিহাব। 

জানা গেছে, ঐ তালিকার ২৫০ নম্বরে নাম রয়েছে ইউনিয়নের পাটোয়ারীপাড়া গ্রামের আব্দুল হাই নামের এক কৃষকের। ঐ কৃষকের দেড় বিঘা জমির ওপর রয়েছে আধাপাকা বাড়ি। কৃষি জমি রয়েছে ২০ বিঘার ঊর্ধ্বে। সম্পর্কে তিনি ইউপি      চেয়ারম্যানের চাচাশ্বশুর। ২৬৬ নম্বরে নাম থাকা আব্দুল মতিন আব্দুল হাইর ছোটো ভাই। তারও রয়েছে আধাপাকা বাড়িসহ প্রায় ২০ বিঘা কৃষিজমি। ২৭০ নম্বরে নাম থাকা সরকারপাড়া গ্রামের সিরাজুল ইসলামও এক জন সচ্ছল ব্যক্তি। ২৬৭ নম্বরে নাম থাকা শরিফুল ইসলাম এক জন হোটেল ব্যবসায়ী। এ ব্যাপারে  ইউনিয়নের মাগুড়া মাস্টারপাড়া গ্রামের কৃষক তাজুল ইসলাম বলেন, ‘ইউপি চেয়ারম্যানের দুর্নীতির কারণে সুবিধাবঞ্চিত হয়েছে এলাকার গরিব মানুষ।’

এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মাহামুদুল হোসেন শিহাব বলেন, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। যারা টাকা পাওয়ার যোগ্য তাদের নামই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। উলটো তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, আমার আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে যারা গরিব তাদের নাম তালিকায় দেওয়া কি অন্যায়?

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি দ্রুত তদন্ত করা হবে।’