লিবিয়ার ভয়ঙ্কর মানবপাচারকারী চক্রের অন্যতম সদস্য বিশ্বনাথের দালাল রফিক ইসলামকে (৫৮) অবশেষে গ্রেফতার করতে পড়েছে র্যাব-৯। রফিক উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের কাঠলীপাড়া গ্রামের মৃত চমক আলীর ছেলে। তার বিরুদ্ধে ৮টি মানবপাচারের মামলা রয়েছে। দালাল রফিকের মাধ্যমে ইতালির পথে গিয়ে গত বছরের মে মাসে ভুমধ্যসাগরে ডুবে মারা গেছে সিলেটের অনেক যুবক।
জানা গেছে, সব জেনেশুনেই তরতাজা যুবকদের ইউরোপে পাড়ি দেওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতো রফিক। লিবিয়াতেও রয়েছে তার শক্ত সিন্ডিকেট। লিবিয়ায় বন্দি থাকা স্বজনের মৃত্যু ঠেকাতে সিলেটের রফিকের হাতেই তুলে দেওয়া হতো মুক্তিপণের টাকা। সেই টাকা রফিক হুন্ডির মাধ্যমে লিবিয়ায় পাঠাতে। সেখানে রয়েছে তার ছেলে পারভেজ। সেও লিবিয়ার মানবপাচারকারী মাফিয়াদের একজন। তার মাধ্যমেই বাংলাদেশে মানবপাচার চক্রের গড়ে তোলেন রফিক।
আরও পড়ুন: ডাকে বিনা খরচে ঢাকায় যাবে রাজশাহীর আম
এদিকে মামলা দায়েরের পর থেকে ঢাকায় পালিয়ে ছিলেন রফিক। ঢাকায় বসেই তিনি দেশজুড়ে মানবপাচারের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন। সম্প্রতি ঈদ পালন করতে বাড়িতে এলে সোমবার (১ জুন) বিকেলে নিজ বাড়ি থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। এরপর সোমবার রাতেই তাকে বিশ্বনাথ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র্যাবের-৯ এএসপি (মিডিয়া অফিসার) ওবাইন।
ভুমধ্যসাগরের চিরতরে হারিয়ে যাওয়া রেজওয়ানুল ইসলাম খোকনের ভাই রেজাউল ইসলাম রাজু সাংবাদিকদের বলেন, আমরা জান ও মাল সব হারালাম। এখন বাকি শুধু বিচার। এই বিচার হলেই আমরা খুশি হবো।
ইত্তেফাক এসি