চট্টগ্রামে ডায়ালাইসিস নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কিডনি রোগীরা। করোনায় আক্রান্ত কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিসের জন্য আলাদা কোনো ব্যবস্থা নেই। করোনায় আক্রান্ত হলে চট্টগ্রামে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে রোগীদের ডায়ালাইসিস করা হচ্ছে না। চট্টগ্রামে ইতিমধ্যে অনেক কিডনি রোগী কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়েছেন। আলাদা ব্যবস্থা না থাকায় কোভিড-১৯ আক্রান্ত কিডনি রোগীরা ডায়ালাইসিস থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
জানতে চাইলে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি ইত্তেফাককে বলেন, ‘চট্টগ্রামে কোভিড আক্রান্ত কিডনি রোগীর ডায়ালাইসিসের কোনো ব্যবস্থা নেই। বিষয়টি নিয়ে আমাদের আলাপ হয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিক্যালে আমরা অন্তত একটি মেশিন দিয়ে হলেও কোভিড আক্রান্ত কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিসের ব্যবস্থা করতে বলেছি।’
অভিযোগ উঠেছে, চট্টগ্রামে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে অবহেলা করেছেন। তারা যদি উদ্যোগী হতেন, তাহলে কোভিড-১৯ আক্রান্ত কিডনি রোগীদের জন্য ডায়ালাইসিসের আলাদা ইউনিট করতে পারতেন। বিষয়টি একেবারে গুরুত্ব দেননি স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর চট্টগ্রামের পরিচালকের মা কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন। তার কিডনির ডায়ালাইসিস করতে হয়। এখন তার মাকে ঢাকায় নিয়ে যেতে হয়েছে বলে জানান স্বাচিপের এক নেতা।
এ প্রসঙ্গে স্বাচিপ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের করোনাবিষয়ক সমন্বয়ক ডা. আ ন ম মিনহাজুল উদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমরা শুরু থেকে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ডায়ালাইসিসের ব্যবস্থা করতে বলেছিলাম, কিন্তু চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা গুরুত্ব দেননি। চট্টগ্রামসহ আশপাশের কোনো জেলায় কোভিড আক্রান্ত কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিসের কোনো ব্যবস্থা নেই। চট্টগ্রামে কোভিডে আক্রান্ত ৩০-৪০ জন কিডনি ডায়ালাইসিসের রোগী রয়েছে। এখন এসব রোগী সমস্যায় পড়েছেন।
জানা গেছে, চমেক হাসপাতালের পরিচালক উদ্যোগী হয়ে কিডনি রোগীদের জন্য পাঁচটি ডায়ালাইসিস মেশিনের ব্যবস্থা করেছেন। মেশিনগুলো চট্টগ্রাম মেডিক্যালে পৌঁছালেও এখনো চালু করা হয়নি। তবে দ্রুত মেশিন চালুর চেষ্টা চালাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এ ব্যাপারে চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম হুমায়ুন কবির ইত্তেফাককে বলেন, ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট বসাতে সময় লাগছে। আশা করি কয়েক দিনের মধ্যে ডায়ালাইসিস মেশিন চালু করতে পারব। প্রথম পর্যায়ে দুটি ডায়ালাইসিস মেশিনে কোভিড আক্রান্ত কিডনি রোগীদের সেবা দেওয়া হবে।