সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর সুফল পেয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন প্রতিবন্ধীরাও। শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়েও মানবিক বিভাগ থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে জিপিএ-৪ দশমিক ২৮ পেয়ে সফলতা অর্জন করেছে প্রতিবন্ধী চামেলী খাতুন।
সদর উপজেলার বন্বু ইউনিয়নের কোমরগ্রামের মোনায়েম হোসেনের কন্যা চামেলী খাতুন কোমরগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। পরীক্ষায় শ্রুতি লেখক হিসাবে সহযোগিতা করে ওই স্কুলেরই ৮ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী রিফাত জাহান রিজা।
চামেলী খাতুন জানান, জন্মের পর থেকেই সে শারীরিক প্রতিবন্ধী ( চিকিৎসকের ভাষায় একে সেরিব্রাল পালসি বলে)। ছোট থাকা অবস্থায় অসুস্থতা জনিত কারণে মা নাসিমা বেগম মারা যান। পিতার অভাবের সংসারে প্রতিবন্ধী ভাতা পাওয়ার কারণে পরিবারে তার একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয় চামেলী খাতুন। সৎ মায়ের সংসারে বেড়ে ওঠা চামেলীর লেখা পড়ার প্রতি যথেষ্ট আগ্রহী দেখে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।
কোমরগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুল হক মাছুম বলেন, চামেলী খাতুন বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত থাকতো। বাবা একজন ওয়েল্ডিং মিস্ত্রী হিসাবে কাজ করে। অভাবের সংসারে মেয়েটি বেড়ে ওঠার পরেও লেখা পড়ার প্রতি আগ্রহ দেখে শিক্ষকরা সার্বিক ভাবে সহযোগিতা করেছে বলেও জানান, প্রধান শিক্ষক কামরুল হক মাছুম।
বর্তমান সরকারের মহৎ উদ্যোগ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর সুফল পেয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন প্রতিবন্ধীরা বলে জানান, জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক ময়নুল হক। জয়পুরহাট জেলায় প্রতি বছর ১১ হাজার ৯৭২ জন প্রতিবন্ধীকে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর আওতায় ১০ কোটি ৭৭ লাখ ৪৮ হাজার টাকা প্রতিবন্ধী ভাতা প্রদান করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
ইত্তেফাক/এসআই