সারাদেশে ৭ লাখ ২০ হাজার হেক্টরে পাট চাষের লক্ষ্য নির্ধারণ

বিমল সাহা, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি

চলতি মৌসুমে সারাদেশে ৭ লাখ ২০ হাজার হেক্টরে পাট ও পাট সদৃশ্য তন্তু চাষের কর্মসূচি নিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। এরই মধ্যে পাট বপন শেষ হয়েছে। এখন চলছে পরিচর্যা। আর এবার পাটের উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ৮২ লাখ ৮১ হাজার ৯৫৬ বেল।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ঢাকার প্রধান কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, দেশি পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ৩২ হাজার ৫০০ হেক্টরে, উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৯৪ হাজার ১০৬ বেল। তোষা জাতের পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ৬ লাখ ৪০ হাজার হেক্টরে। তোষা পাটের উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ৭৫ লাখ ৮৪ হাজার ৬২ বেল। মেস্তা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ২০ হাজার ৭০০ হেক্টরে এবং উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭৫ হাজার ৯৮৯ বেল। আর ২৬ হাজার ৮০০ হেক্টরে কেনাফ চাষ করে ২ লাখ ২৭ হাজার ৮০৮ বেল কেনাফ উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। উক্ত সূত্রে আরো জানা যায়, ঢাকা জোনে ৪৪ হাজার ৭৩৭ হেক্টরে পাট চাষ করে ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৪২ বেল পাট উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ফিল্ড সার্ভিসের পরিচালক ড. আলহাজ উদ্দিন আহমেদ জানান, পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। গত বছর পাট চাষ হয়েছিল ৬ লাখ ৫০ হাজার ৯৬০ হেক্টরে। পাট উত্পাদনের পরিমাণ ছিল ৭৪ লাখ ৩৯ হাজার ৭৩০ বেল।

বিগত শতকের শেষ দিকে পাট চাষ একেবারেই কমে গিয়েছিল। পাটের দাম না পাওয়ায় চাষিরা পাট চাষ কমিয়ে অন্য ফসল চাষে ঝুঁকে পড়েন। বিগত কয়েক বছর দাম চড়া হওয়ায় চাষিরা নতুন করে পাট চাষে ঝুঁকছেন। ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার বিজুলিয়া গ্রামের চাষি বাচ্চু মোল্লা জানান, পাট চাষ ব্যয়বহুল ও পরিশ্রম বেশি হয়। আর গত বছর যে দামে পাট বিক্রি করা হয়েছিল তাতে লাভ ছিল না। নতুন পাট ওঠার পর দাম একটু ভালো থাকে। হাটবাজারে পাটের আমদানি বাড়ার পর দাম পড়ে যায়। গত বছর ভরা মৌসুমে প্রতি মণ ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা দরে কেনা-বেচা হয়েছিল। চাষির পাট ফুরিয়ে গেলে দাম চড়ে যায়। শৈলকুপা মোকামের পাট ব্যবসায়ী নিখিল অধিকারী জানান, পুরোনো পাট প্রতি মণ ২ হাজার টাকা দরে কেনা-বেচা হচ্ছে। মাস খানেকের মধ্যে নতুন পাট উঠতে শুরু করবে বলে তিনি জানান।