করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউন শিথিল হয়েছে। সীমিত আকারে গণপরিবহন চালানোর অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত রাইড শেয়ারিংয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়নি সরকার। এসব সার্ভিসের কয়েক লাখ চালক এখনো বেকার দিন কাটাচ্ছেন। বিশেষ করে প্রাইভেটকার এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকরা পড়েছেন এক দুর্বিষহ অবস্থার মধ্যে। একটি রাইড শেয়ারিং কোম্পানি তাদের নিবন্ধিত চালকদের করোনাকালীন আর্থিক প্রণোদনা দিলেও অধিকাংশ চালক এর বাইরে রয়েছেন। সীমিত আকারের গণপরিবহন চালু করায় রাইড শেয়ারিং কোম্পানিগুলো শর্তসাপেক্ষে তাদের সেবা চালু করার অনুমতি চেয়েছে সরকারের কাছে।
বাংলাদেশে রাইড সেবা দেওয়ার প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠনের আহ্বায়ক এবং ওভাই সলিউশন্সের কর্মকর্তা সৈয়দ ফখরুদ্দিন মিল্লাত ইত্তেফাককে বলেন, এরই মধ্যে রাইড সেবা পরিচালনার অনুমতি চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
দেশীয় রাইড শেয়ারিং কোম্পানি ওভাই সলিউশন কোম্পানি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কাছে লিখিত এক চিঠিতে তাদের সেবা চালু করার আবেদন জানিয়েছে। ওভাই কর্তৃপক্ষ বলেছে, সাধারণ ছুটি ও লকডাউন আংশিকভাবে শিথিল করায় কর্মক্ষেত্র এবং গণপরিবহন ব্যবস্থা শর্তসাপেক্ষে চালু হয়েছে। বিশেষ পরিস্থিতিতে ওভাই কর্তৃপক্ষ গাড়ি এবং সিএনজিতে প্লেক্সিগ্লাস স্থাপন করেছে। এটি যাত্রাপথে করোনা ভাইরাসের যাত্রীদের সুরক্ষা দেবার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে। চালকের আসনের পাশাপাশি স্বচ্ছ অ্যাক্রেলিক শিট দিয়ে তৈরি এ প্লেক্সিগ্লাসটি যাত্রী এবং চালকের মাঝামাঝি বসানো হয়েছে। এছাড়া রাইড শেয়ারিং কোম্পানিটি জীবাণুনাশক ব্যবহারের মাধ্যমে যানবাহন জীবাণুমুক্ত করা, যাত্রীদের হ্যান্ড স্যানেটাইজার প্রদান, ইলেকট্রনিক পেমেন্ট প্রদান, চালক এবং যাত্রীদের মাস্ক সরবরাহ করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে বিআরটিএর কাছে। এদিকে, ওভাই কোম্পানি এরই মধ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অনুমতি নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালের রোগী এবং ডাক্তারদের পরিবহন করছে। রাজধানীসহ দেশের ২৩টিরও বেশি শহরে ওভাই রাইড শেয়ারিংয়ের সেবা রয়েছে। করোনাকালীন ওভাই কার এবং সিএনজি চালানোর অনুমতি চাইলেও মোটরসাইকেলকে তারা এর বাইরে রেখেছে। এ ব্যাপারে যুক্তি হচ্ছে—মোটরসাইকেলে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব নয়।