করোনা ভাইরাসে ১২ ব্যাংকারের মৃত্যু

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে এখন পর্যন্ত ১২ জন ব্যাংকারের মৃত্যু হয়েছে; এর মধ্যে একজন ব্যাংকের পরিচালক রয়েছেন। আর করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন আরো কয়েক জন ব্যাংকার। গতকাল করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন রূপালী ব্যাংক কর্মকর্তা মিজানুর রহমান (৫৬)। আর করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ব্যাংকিং খাতে কর্মরত শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী। এর মধ্যে শুধু কেন্দ্রীয় ব্যাংকেই আক্রান্ত হয়েছেন অর্ধশতাধিক কর্মকর্তা।

পরিস্থিতি এমন ভয়াবহ হওয়ার পরও যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানছে না অনেক ব্যাংক। কোনো শাখায় কেউ আক্রান্ত হলেও সেসব শাখা লকডাউনের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। যেটুকু করা হচ্ছে তা হলো, আক্রান্ত ব্যক্তিকে ছুটিতে পাঠিয়ে স্বাভাবিকভাবেই চলছে ব্যাংকিং।

রূপালী ব্যাংকের যে কর্মকর্তা গতকাল বুধবার মারা গেছেন তিনি ফকিরাপুল শাখায় অফিসার (ক্যাশ) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায় নিজ বাড়িতে তিনি মারা যান। উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া মিজানুর রহমানের নমুনা পরীক্ষা হলেও তার ফলাফল এখনো জানা যায়নি। এর আগে একই ব্যাংকের কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম খান (৪৯) কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যান।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া অন্য কর্মকর্তারা হলেন—সিটি ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের মুজতবা শাহরিয়ার, সোনালী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার (পিও) মাহবুব এলাহী, এনসিসি ব্যাংকের চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ শাখার অ্যাসিসটেন্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট জামশেদ হায়দার চৌধুরী, উত্তরা ব্যাংকের শান্তিনগর শাখার কর্মকর্তা ওয়াহিদ মর্তুজা, জনতা ব্যাংকের লোকাল অফিসের প্রশাসন শাখার এক্সিকিউটিভ অফিসার হাসিবুর রহমান, সিটি ব্যাংকের অ্যাসিসটেন্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট পদের আবু সাঈদ এবং মো. সামসুদ্দিন। করোনায় মারা গেছেন ন্যাশনাল ব্যাংকের এসএভিপি মো. বাশার, অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তা মো আব্দুল মালেক, ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ইমামগঞ্জ শাখার ক্যাশ ইনচার্জ মো. মনিরুজ্জামান। এছাড়া করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন দেশের অন্যতম শিল্পপতি এস আলম গ্রুপ ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের পরিচালক মোরশেদ আলম।

এমন পরিস্থিতিতে অধিকাংশ ব্যাংকেই স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মানা হচ্ছে না। ব্যাংকগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শারীরিক দূরত্ব মানার জন্য ব্যাংকের কর্মকর্তাদের আসন বিন্যাসে তেমন কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। ব্যাংকগুলোতে রোস্টার পদ্ধতি করা হলেও তা মানা হচ্ছে না। ব্যাংকের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকেও একই অবস্থা বলে জানা গেছে। করোনা ভাইরাসের প্রকোপ ঠেকাতে কর্মীদের সাপ্তাহিক ও পাক্ষিক ভিত্তিতে রোস্টারিং ডিউটির ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল।

পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হালিম চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, ব্যাংকিং করার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সুরক্ষাকে সবার আগে দেখার জন্য ব্যাংকের সবাইকে বলে দেওয়া হয়েছে। সুরক্ষাসামগ্রী ছাড়া কেউ ব্যাংকে ঢুকতে পারবে না। রোস্টার করে ডিউটি করার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সাউথইস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এম কামাল হোসেন বলেন, করোনা ভাইরাসের চলমান পরিস্থিতে আমাদের নিজস্ব একটি পরিকল্পনার মাধ্যমে দুটি গ্রুপে কাজ চালাচ্ছি। আমাদের প্রত্যেক শাখায় এখন ৫০ শতাংশ কর্মী কাজ করছে।