ফুলবাড়ীতে হলুদে সেজেছে সরিষার মাঠ

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে দিগন্তজোড়া কৃষকের মাঠে হলুদের সমারোহ। চারিদিকে সরিষা ফুলে ভরে উঠেছে ফসলের মাঠ। ঋতুর পালাবদলের সঙ্গে বদলে গেছে প্রকৃতির রূপ বৈচিত্র। আবহাওয়া অনুূকুল থাকায় চলতি মৌসুমে সরিষার আবাদ গত বছরের চেয়ে ভালো। কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক।

আমন ধান ঘরে তোলার পরেই কৃষকরা ওই জমিতে সরিষা চাষ করে। উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছেন। ইতিমধ্যে সরিষা দানা বাধতে শুরু করেছে। এই ফসল ঘরে তোলার পর আবার ওই জমিতেই কৃষক ইরি-বোরো চাষ করেন। মূলতঃ সরিষা বিক্রি করেই কৃষক ইরি-বোরো আবাদের খরচের জোগান দেয়। সরিষা আবাদের কারণে কৃষকের বপন করা ইরি-বোরো জমিতে বাড়তি হাল চাষ, সার ও কীটনাশক ঔষধ দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। ফলে অল্প খরচ ও কম পরিশ্রমেই সরিষার জমিতে ইরি-বোরো আবাদে লাভবান হয় কৃষক। 

উপজেলা অফিস সুত্রে জানা যায়, টরি ৭, বারি ১৪/১৫ ও বিনা ৪, ৯,৭ জাতের সরিষা বিঘা প্রতি পাঁচ থেকে সাত মণ ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।  

উপজেলার নাওডাঙ্গার কৃষক মমিনুল ইসলাম, নন্দিরকুটি গ্রামের আনোয়ার হোসেন, দাসিয়ারছড়ার আমজাদ হোসেন ও কাশিপুরের রবিউল ইসলাম বলেন, ‘উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে আমরা টরি ৭, বারি ১৪/১৫ ও বিনা ৪, ৯,৭ জাতের সরিষার আবাদ করেছি। এ বছর সরিষার গাছও ভালো হয়েছে। গাছে প্রচুর পরিমানে ফুল ধরায় ফলন হবে। গত বছরের চেয়ে এ বছর ফলন ভালো হয়েছে। আশা করছি, বিঘা প্রতি ৫ থেকে ৭ মণ করে সরিষা ঘরে তুলবো।’

আরও পড়ুনঃ নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ বৃহস্পতিবার

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহাবুবুর রশিদ জানান, এ উপজেলায় প্রভেক্স নামক বীজ শোধনের ওষুধ প্রয়োগের ফলে গত বছরের তুলনায় এবারে চাষিরা সরিষার বাম্পার ফলন পাবে বলে আমার বিশ্বাস। রাজস্ব খাতের প্রদর্শনী ২০টি, বিনা গবেষনার ৮টি এবং কৃষক পর্যায়ে বীজ উৎপাদন ৪টি প্রদর্শনীসহ উপজেলায় মোট ৫৫০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ করা হয়েছে। সরিষা আবাদের জন্য কৃষি অফিস সব সময় কৃষকের মাঠে গিয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রদান করছে। 

ইত্তেফাক/অনি