মো. লুত্ফুর রহমান, কুমিল্লা প্রতিনিধি
বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (বার্ড) কুমিল্লার অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও মরে যাওয়ার কারণে ক্যাম্পাসে গত তিন বছরে ২৫৪টি কাঁঠালগাছ বিলীন হয়ে গেছে। লালমাই পাহাড়ের ঢাল, টিলার চূড়া ও পাদদেশের ১৫৬ একর জায়গা জুড়ে বার্ডের ক্যাম্পাস। পাহাড়ি জনপদের ঐ ক্যাম্পাসে এক সময় যত দূর চোখ যেত, শুধু কাঁঠালের দেখা মিলত। মধুফল কাঁঠালের মৌসুমে সুমিষ্ট গন্ধে ঐ এলাকা ম-ম করত। তবে গত তিন বছরে কাঁঠালের ফলন কমে এসেছে। বার্ডের বাগান শাখার কর্মকর্তা ও কর্মচারী সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, বার্ড কর্তৃপক্ষ গত ৩ মে বাগানের কাঁঠাল নিলামে বিক্রি করে। এতে ৬৬১টি গাছের ৬ হাজার ৫৫৩টি কাঁঠাল ১৪ টাকা দরে ১ লাখ ২ হাজার ২৯৩ টাকায় বিক্রি করা হয়। ২০১৯ সালে বার্ড ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে ৭০৪টি গাছের ৭ হাজার ৭৩২টি কাঁঠাল সাড়ে ১৩ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। মোট বিক্রি হয় ১ লাখ ৪ হাজার ৩৮২ টাকার কাঁঠাল। ২০১৮ সালে বার্ডের ৯১৫টি গাছে ১০ হাজার ১২৭টি কাঁঠাল ধরে। তখন ঐ কাঁঠাল নিলামে বিক্রি হয় ১ লাখ ৩১ হাজার ৬৫১ টাকা।
বার্ডের একাধিক কর্মকর্তা জানান, এ ক্যাম্পাসে সময়ে সময়ে কিছু নতুন স্থাপনা নির্মাণের কারণে অনেক গাছ কাটা পড়েছে। নতুন করে কাঁঠালগাছ লাগাতে হবে, না হয় ধীরে ধীরে তা বিলীন হয়ে যাবে।
বার্ডের সহকারী পরিচালক ও কাঁঠাল বিক্রয় কমিটির সদস্য সচিব সালেহ আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, ‘লালমাই পাহাড়ের মাটি লাল। ঐ লাল মাটিতে প্রচুর কাঁঠাল ধরে। কিন্তু গত বছরের তুলনায় বার্ড ক্যাম্পাসে এবার কাঁঠাল কিছুটা কম ধরেছে। প্রতি বছর এ ক্যাম্পাসের কাঁঠাল নিলামে বিক্রয় করা হয়। এ বছর ১৩ জন ব্যবসায়ী কাঁঠাল কিনতে নিলামে অংশ নেন। নিলামে ডাকের মাধ্যমে প্রতিটি কাঁঠাল সর্বোচ্চ ১৪ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এ বছরের কাঁঠাল আকারে কিছুটা বড়ো হওয়ায় দাম ভালো পাওয়া গেছে। তবে ক্যাম্পাসে কাঁঠালগাছের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। বার্ডের বাগান শাখার কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন করে গাছ লাগানোর বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’