করোনা চিকিত্সায় ম্যালেরিয়ার ওষুধ ব্যবহার
হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ওষুধ ব্যবহারে কোভিড-১৯ রোগীদের উচ্চ মৃত্যুহারের পাশাপাশি হূদ্যন্ত্রের সমস্যা বেড়েছে বলে জানানো গবেষণাপত্রটি প্রত্যাহার করে নিয়েছে বিশ্বখ্যাত মেডিক্যাল জার্নাল ল্যানসেট। যে তথ্যের ওপর ভিত্তি করে গবেষণাটি হয়েছিল, তার মান নিয়ে সন্দেহ তৈরি হওয়ায় নিবন্ধটি প্রত্যাহার করার কথা জানানো হয়েছে। ছয়টি মহাদেশের ৯৬ হাজার রোগীর তথ্য বিশ্লেষণের দাবি করে গত মাসে প্রকাশিত ওই নিবন্ধে লেখকরা করোনা ভাইরাসের চিকিত্সায় অ্যান্টি ম্যালেরিয়াল ড্রাগ হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ব্যবহার নিয়ে সতর্ক করেছিলেন। তাদের ঐ গবেষণার ওপর ভিত্তি করে বেশ কয়েকটি দেশ কোভিড-১৯ এর চিকিত্সায় ওষুধটি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেয়। তবে নিবন্ধের লেখকরা তথ্যের উত্স এবং তা সংগ্রহের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট ছিলেন না জানানোর পর তাদের অনুরোধেই নিবন্ধটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে বলে জানায় ব্রিটিশ ঐ মেডিক্যাল জার্নাল। খবর বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমের।
যে কোম্পানির তথ্যের ওপর ঐ গবেষণাটি দাঁড়িয়েছিল, সেই সার্জিস্ফিয়ারের কর্মীদের তথ্য পর্যালোচনা কিংবা বৈজ্ঞানিক গবেষণার কোনো অভিজ্ঞতাই নেই বলে উঠে এসেছে গার্ডিয়ানের এক অনুসন্ধানে। নিবন্ধের লেখকরা এখন বলছেন, সার্জিস্ফিয়ার স্বতন্ত্র পর্যালোচনার জন্য সব রোগীর পূর্ণাঙ্গ তথ্য তাদেরকে সরবরাহ করেনি। যে কারণে ‘তথ্যের প্রাথমিক উেসর সত্যতা সম্পর্কে’ তারা নিশ্চিত হতে পারছেন না। ল্যানসেটের বিবৃতিতেও বলা হয়, সার্জিস্ফিয়ার এবং গবেষণায় তাদের দেওয়া তথ্য নিয়ে ‘প্রশ্ন উঠেছে’। অথচ যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কোম্পানি সার্জিস্ফিয়ারের এ ‘ত্রুটিপূর্ণ’ তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বিভিন্ন দেশের সরকার তাদের নীতিতে পরিবর্তন এনেছিল।
গার্ডিয়ান লিখেছে, কোম্পানিটি এখন পর্যন্ত তাদের তথ্য কিংবা কোন পদ্ধতিতে তা সংগ্রহ করা হয়েছে সে সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিতে ‘ব্যর্থ হয়েছে’। কোভিড-১৯ সংক্রান্ত যেসব গবেষণায় সার্জিস্ফিয়ারের তথ্য ব্যবহূত হয়েছে, তার বেশির ভাগ নিবন্ধেই সহলেখক হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী স্বপন দেশাইয়ের নাম আছে। বিভিন্ন জালিয়াতির সঙ্গে নাম জড়ানো স্বপনের অতীত এবং সার্জিস্ফিয়ার নিয়ে প্রশ্ন উঠার পর স্বপনের নামে থাকা উইকিপিডিয়া পেইজও সরিয়ে ফেলা হয়েছে। গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় অখ্যাত একটি প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এরকম একটি গবেষণা প্রতিবেদন ছাপিয়ে ফেলার পর ল্যানসেটের মতো বিশ্বখ্যাত জার্নালগুলোতে ছাপা হওয়া গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা বা নিবন্ধগুলো ঠিকমতো যাচাই-বাছাই হয় কী-না, তা নিয়েও সন্দেহ বাড়ছে।