যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশ হেফাজতে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর বিচার দাবিতে চলমান প্রতিবাদ-বিক্ষোভে পুলিশের সদস্যরা বর্বরভাবে বল প্রয়োগ করেছেন। পুলিশের বল প্রয়োগের কিছু ভিডিও প্রকাশের পর তা দেখে রীতিমতো স্তম্ভিত যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ। নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফেলোতে এক বয়স্ক শ্বেতাঙ্গকে মারধরের ভিডিও প্রকাশের পর দুই পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এদিকে বিক্ষোভ দমনে সেনা মোতায়নের হুমকি দেওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন আরেক সাবেক শীর্ষ জেনারেল। সাবেক জয়েন্ট চিফ অফ স্টাফ চেয়ারম্যান জেনারেল মার্টিন ডেম্পসি ন্যাশনাল পাবলিক রেডিওকে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সেনা মোতায়নের ঘোষণা খুবই বিপজ্জনক। কারণ বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বিক্ষোভ ছিল শান্তিপূর্ণ। আর শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। খবর : বিবিসি, সিএনএন ও আলজাজিরার।
গত ২৫ মে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহরে পুলিশের হাতে জর্জ ফ্লয়েড নিহত হন। এর প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রে টানা বিক্ষোভ চলছে। বিক্ষোভকালে ব্যাপক সহিংসতায় এখন পর্যন্ত প্রায় ১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। বিক্ষোভের মুখে জর্জ ফ্লয়েডকে হত্যার ঘটনায় বরখাস্ত হওয়া চার পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত তিন পুলিশ সদস্যকে প্রথম বারের মতো আদালতে হাজির করা হয়। ১০ লাখ ডলারের মুচলেকায় তাদের জামিন আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে। মূল আসামি ডেরেক চাওভিনকে আগামী সোমবার আদালতে হাজির করা হবে।
এদিকে মিনিয়াপোলিস শহরে বৃহস্পতিবার জর্জ ফ্লয়েডের প্রথম স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্মরণসভায় ৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডের নীরবতা পালন করা হয়। এই ৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড সময় ধরে জর্জ ফ্লয়েডের ঘাড়ে হাঁটু চেপে রেখে তাকে হত্যা করেছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা। মিনিয়াপলিসের নর্থ সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ঐ সভায় ফ্লয়েডের আইনজীবী বেঞ্জামিন ক্রাম্প বলেন, করোনা ভাইরাসের মহামারির কারণে তার মৃত্যু হয়নি বরং বর্ণবাদের মহামারিতে মৃত্যু হয়েছে। স্মরণসভায় শত শত মানুষ সমবেত হন।
সেখানে নাগরিক অধিকার আন্দোলনের কর্মী রেভ আল শার্পটন বলেন, ফ্লয়েডের সঙ্গে যা হয়েছে তা এদেশে প্রতিদিন শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবাসহ আমেরিকান জীবনের প্রত্যেক ক্ষেত্রেই ঘটে। উঠে দাঁড়ানোর সময় এখন। আমাদের ঘাড় থেকে আপনাদের হাঁটু সরান— এ কথাটি বলার সময় এখন।
পুলিশের বর্বরতা
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকালে পুলিশের বর্বরতার বেশ কিছু ভিডিও প্রকাশ পেয়েছে যা দেখে মার্কিনিরা স্তম্ভিত। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফেলোতে পুলিশ কারফিউ কার্যকর করতে গিয়ে ৭৫ বছর বয়সি এক ব্যক্তিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় ও তার মাথায় আঘাত করে। তার মাথা দিয়ে রক্ত পড়তে থাকে। এ ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়েছে। আরেক ভিডিওতে দেখা যায়, ভার্জিনিয়ার উইলিয়ামস বার্গে পুলিশ এক ব্যক্তিকে মাটিতে ফেলে মারছে। তার মাথা থেকে যখন রক্ত ঝরছিল তখন পুলিশ তাকে আটক করে। ভিডিও প্রকাশের পর, নিউ ইয়র্কের গর্ভনর অ্যান্ড্রু কুওমো বলেছেন, বাফেলোর ঘটনা সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য। পুলিশ সদস্যরা আইনের অপব্যবহার করতে পারেন না। এদিকে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি বলেছেন, পুলিশের নিষ্ঠুরতা ও বর্ণবাদী অবিচার নিয়ে আগামী সপ্তাহে বিল উত্থাপন করবে কংগ্রেসের ব্যাক ককাস। তিনি বলেন, এসব সমস্যার সমাধান করা খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে।
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা
শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে বাধা ও পুলিশের আগ্রাসী ভূমিকার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। কিছু বিক্ষোভকারী ও মানবাধিকার সংগঠন দ্য আমেরিকান সিভিল লিবার্টিস ইউনিয়ন (এসিএলইউ) বৃহস্পতিবার ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে নাগরিক অধিকার হরণের এই মামলা করেছে।